সায়নীর ‘বারিশ ব্রেক’, বৃষ্টিদিনে সংসদের বাইরে রিল বানাচ্ছেন যাদবপুরের সাংসদ
প্রতিদিন | ২৮ জুলাই ২০২৬
জনপ্রতিনিধি বলে কি নিজস্ব কোনও সময় থাকবে না? নিজস্ব যাপন থাকবে না? কাজের ফাঁকে যদি সেটুকু করা যায়, তাহলে কারই বা বলার কী আছে? সেই পরিসরে জনপ্রতিনিধিরা যাই করুন, মোটেই সমালোচনা কাম্য নয়। সেসব তুচ্ছ করে সংসদে অধিবেশন চলাকালীন রিল বানিয়ে ফেললেন যাদবপুরের সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। বৃষ্টিদিনে সংসদ ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে হরিহরণের রোম্যান্টিক গানের সঙ্গে ২০ সেকেন্ডের রিলের ক্যাপশনে দু’লাইন কবিতাও লিখেছেন সাংসদ। এসব দেখে নেটিজেনদের প্রশ্ন, এই জন্য কি সাংসদ নির্বাচিত করেছেন ভোটাররা?
রাজনৈতিক কেরিয়ারে সম্প্রতি বেশ ওঠাপড়া গিয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তাঁর দল ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। তার উপর দলের অন্দরে ভাঙনের শেষ নেই। এই অবস্থায় যাদবপুরের সাংসদ বেশ কিছুদিন একেবারে চুপচাপ ছিলেন। আচমকা তাঁকে দমদম বিমানবন্দরে দেখা যায় – সম্পূর্ণ ভোলবদল! সুতির শাড়ি, হাওয়াই চটি, খোঁপার বদলে পরনে ছিল জিন্স, টিশার্ট, টুপি, সানগ্লাস। গুঞ্জন ওঠে, তবে কি রাজনীতি ছেড়ে পুরোপুরি আবার অভিনয় জগতে ফিরছেন? এ তারই প্রস্তুতি?
কিন্তু না, তেমন তো নয়। ফের সায়নীকে রাজনীতির আঙিনায় দেখা গিয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূলের বাকি সাংসদদের সঙ্গে তিনিও যোগ দেন এনসিপিআইতে। নতুন দলে কেরিয়ার শুরু করার পর সায়নীর বেশভূষায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে বটে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাবশিষ্যা’ হিসেবে সাদা বা হালকা রঙের সুতির শাড়ি, হাওয়াই চটি পরেই নির্বাচনের সময় তাঁকে বরাবর দেখা গিয়েছিল। এনসিপিআই-এর সাংসদ অবশ্য শুধু শাড়ি বা সালোয়ার কামিজে দেখা যাচ্ছে সায়নীকে।
এবার সংসদে অধিবেশনের মাঝেই সায়নী ধরা দিলেন অন্য মুডে। মঙ্গলবারই এনডিএ-র বৈঠকে এনসিপিআইকে ‘নতুন শরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর অধিবেশনে যোগ দেন এনসিপিআই সাংসদরা। মাঝে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সায়নী ব্যস্ত হলেন রিল বানাতে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আলোচনায় উত্তাল সংসদের অন্দর আর বাইরে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে সাংসদ উপভোগ করলেন প্রকৃতি।
হরিহরণের বিখ্যাত রোম্যান্টিক গান ‘নহি সামনে তু’র সুরে তৈরি রিলটি ফেসবুকে পোস্ট করে সায়নী লিখলেন, “আমি বাদামী মেঘ চেয়েছিলাম যতদূর এবং কোথাও কোনও ছায়া ছিল না; এই ধরনের বৃষ্টিপাতের মৌসুম কখনোই আসেনি!” হ্যাশট্যাগে অবশ্য ‘মনসুন সেশন’, ‘বারিশ ব্রেক অ্যাট লাঞ্চ’ – এসব লিখতে ভোলেননি। ২০ সেকেন্ডের রিলে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ ভালোই। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসবের জন্য কি লোকে ভোট দিতে সংসদে পাঠিয়েছে? বৃষ্টিদিনে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য? আবার কারও কটাক্ষমূলক মতামত, সম্প্রতি আরও বেশি করে রিল বানাতে জেন জি-কে উদ্দীপ্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এনডিএ-র শরিক হয়ে কি তাই মোদির পরামর্শ মেনে রিল তৈরির পথে হাঁটলেন সায়নী?