বিশ্বকবির 'অতিপ্রিয়' কোপাই নদীর আসল নাম কী? উত্তর দিতে গিয়ে 'ডাহা ফেল' করেছেন অনেকে
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
মূলত নদীমাতৃক দেশ আমাদের ভারত। নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক মানব সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই। নদীকে কেন্দ্র করেই সভ্যতার বিকাশ। মানুষের স্থায়ী বসবাসের সূত্রপাত নদীর ধারে। বীরভূম জেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদ-নদীগুলি হল ব্রাহ্মণী, অজয়, হিংলো, কোপাই, দ্বারকা, বক্রেশ্বর ও ময়ূরাক্ষী। তবে রবীন্দ্রনাথের লেখার সঙ্গে কোপাইয়ের সম্পর্ক সকলেরই জানা।
বীরভূম জেলার উত্তরে বক্রেশ্বর ও দক্ষিণে অজয় নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বয়ে চলেছে স্বপ্নের ও ভালবাসার কোপাই। মূলত বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে জামতারা জেলার খাজুড়ি গ্রামে উৎপত্তি হয়ে দুবরাজপুর, খয়রাশোল, ইলামবাজার, লাভপুর থানার মোট ২৩০টি গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে কোপাই। উৎস থেকে প্রবাহিত হওয়ার পরেই নদীর পরিচিতি ‘শাল’ নামে।
তবে এই নদী ‘শাল’ নামে পরিচিত হলেও কবিগুরুর বোলপুরের বিনুরিয়া গ্রামের কাছে নদীর নাম বদলে হয়েছে কোপাই নদী। তবে বর্তমানে কোপাই নামেই এই নদী পরিচিত। এই নদী বীরভূমের বৃহৎ অংশের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। নানা ঋতুতে এই নদীর নানা রূপ। বারোমাসে এই নদীর বর্ণনায় একসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন “আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে। আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর-ভর-মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।”
বীরভূম জেলার লাভপুর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দক্ষিণে পাথরঘাটা গ্রামের কাছে বক্রেশ্বর নদীর সঙ্গে মিশেছে কোপাই। এই নদীর অববাহিকার মোট আয়তন ৪৩৬ বর্গ কিলোমিটার। কোপাই নদীর উপত্যকায় সুপ্রাচীন মাইক্রোলিথ স্ফটিক পাথর ও প্রস্তুরীভূত কাঠ পাওয়া গিয়েছে। এই মাটিতে ভূমিক্ষয়ের ফলে ছোট ছোট খাত তৈরি হয়েছে। সেই খাত বর্তমানে খোয়াই নামে পরিচিত।