বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করতে করতে সব শেষ...
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ! অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালে প্রাণ হারালেন রোগী। হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার অভাবে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে অক্সিজেন সাপোর্ট না পাওয়ায় এবং ডাক্তার-নার্সদের চরম উদাসীনতার কারণেই কোল খালি হলো এক পরিবারের।
মৃতের ভাই বিজয় সরকার জানান, এদিন দুপুরবেলা তাঁর দাদা সুমন্ত চক্রবর্তী ৪২-র হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি তাঁকেই হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়েছিল। ভর্তি করার প্রায় আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই নেমে আসে বিপর্যয়। বিজয়ের দাবি অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির পর সুমন্তকে একটি স্যালাইন ও ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্যালাইন চালুর পর এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার সময় থেকেই গোলমাল দেখা দেয়।
অভিযোগ, স্যালাইন এবং অক্সিজেন সরবরাহ বেশ কয়েকবার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের লোক বারংবার নার্স ও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ডাকলেও সঠিক সময়ে কেউ সাড়া দেননি। বারবার কাতর অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও দায়িত্বরত এক নার্স সরাসরি জানিয়ে দেন যে তাঁর কাছে এই মুহূর্তে “কোনও সময় নেই”। পরবর্তীতে কোন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী রোগীকে পর্যবেক্ষণ করতে পর্যন্ত আসেননি। পরিস্থিতি যখন আরও বিগড়ে যায় এবং সুমন্তর হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করে, তখন চিকিৎসকের ব্যবস্থা না করে উল্টে ফোন থেকে ছবি পাঠানোর অজুহাতে সময় নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে অক্সিজেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে চোখের সামনে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন সুমন্ত চক্রবর্তী।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর বাধ্য হয়ে চিকিৎসক আসেন এবং ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। মৃত সুমন্ত চক্রবর্তী পেশায় একজন পূজারী ছিলেন এবং উপার্জনের জন্য টোটোও চালাতেন। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও চিকিৎসা গাফিলতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। যদিও এ বিষয়ে হাসপাতালের সুপার কমলিকা মজুমদার সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনও কিছু বলতে চাননি। তবে হাসপাতাল সুত্রে খবর রোগী আাসার পর থেকে ইসিজি সহ সব রকম প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল।