• ‘নিজেরা আগুন লাগিয়ে এখন জল ঢালছে’, প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলে সমর্থন জানিয়েও কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের
    এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা বিলকে সমর্থন করেও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত এক দশকে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার লোকসভায় তিনি বলেন, ‘সরকারই আগুন লাগিয়েছে। এখন এক বালতি জল নিয়ে আসার জন্য তাদের বাহবা দেব না।’ অভিষেকের সুরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের গৌরব গগৈও।

    সোমবারই লোকসভায় পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। মঙ্গলবার শুরু হয় আলোচনা। একবাক্যে বিলকে সমর্থন জানালেও বার বার প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি-সহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে রীতিমতো আক্রমণ করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। অভিষেক শুরুতেই বলে দেন, ‘আমরা এই বিলকে সমর্থন করছি। কিন্তু সরকার যেন এটা না ভেবে বসে, যারা আগুন লাগিয়েছে, পরে তারা এক বালতি জল নিয়ে এলে আমরা তাদের বাহবা দেব।’

    ২০১৪ থেকে নিট, ইউজিসি-নেট, এসএসসির মতো একাধিক পরীক্ষায় বার বার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তই শাস্তি পাননি দাবি করে অভিষেক বলেন, ‘এই সরকার একটা শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠেছে — যখনই ব্যর্থ হয়, তখনই আইন বদলে দেয়।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই গত ১২ বছরের ব্যর্থতা মুছে যাবে না।’ এখানেই থামেননি তিনি। কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘এই বিল কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি। এনডিএ ও বিজেপি সরকার মেধার মর্যাদা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ওদের রিপোর্ট কার্ডের পাশে লেখা থাকবে F, মানে ফেল।’

    সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো তথা কনৌজের সাংসদ অখিলেশ যাদব সরাসরি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই। ছাত্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘একজন প্রধানকে সরিয়ে আপনারা আসলে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচিয়েছেন।’ অখিলেশের দাবি, ‘সরকার যখন ভয় পায়, চাপে পড়ে, তখনই মানুষের দাবি মেনে নেয়।’ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষা, পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গৈরিকীকরণের চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ঝুঁকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুঁকানে ওয়ালা চাহিয়ে।’

    অখিলেশের সুরে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈও। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বললেন, ইনস্টাগ্রামকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন রিলস দেখতে বেশি ব্যস্ত।’ পদত্যাগের পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান সংসদে গেলে, তাঁকে মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদরা। সেই নিয়েও কটাক্ষ করেন গগৈ। তাঁর কথায়, ‘যে মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন ২১ জন ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, তাঁকে এমন ভাবে বরণ করা হলো, যেন পাকিস্তান থেকে যুদ্ধ জিতে ফিরছেন।’

    ১. পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ কী?

    সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও অসাধু উপায় রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার জন্য আনা সংশোধনী বিল।

    ২. তৃণমূল কংগ্রেস কি বিলটির বিরোধিতা করেছে?

    না। তৃণমূল বিলটিকে সমর্থন করেছে। তবে সরকারের ভূমিকা ও অতীতের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছে।

    ৩. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বিলটিকে সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি বলেছেন?

    তাঁর মতে, বারবার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর সরকার নতুন আইন আনতে বাধ্য হয়েছে, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

    ৪. অখিলেশ যাদবের ‘প্রধান’ মন্তব্যের অর্থ কী?

    তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে শব্দের দ্ব্যর্থক ব্যবহার করে বলেন, একজন ‘প্রধান’ (ধর্মেন্দ্র প্রধান)-কে সরিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী’-কে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করা হয়েছে।

    ৫. গৌরব গগৈ প্রধানমন্ত্রীকে কেন আক্রমণ করেন?

    তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বদলে সরকার প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

    ৬. বিরোধীরা বিলকে সমর্থন করেও কেন সমালোচনা করেছে?

    তাদের বক্তব্য, কঠোর আইন প্রয়োজন হলেও প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ দূর করতে প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহি এবং কার্যকর বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

  • Link to this news (এই সময়)