ছাত্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই জয় উদযাপনে বিলাসবহুল হোটেলে পার্টি করার অভিযোগ উঠেছিল ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। মঙ্গলবার X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘জয়ের সঙ্গে বিনয়ও থাকা উচিত।’ বিতর্কের মুখে সাফাই দিয়ে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, ছোট আয়োজন ছিল।
বিলাসবহুল হোটেলে পার্টির ভিডিয়োটি নিজেদের X হ্যান্ডলে পোস্ট করেছিল খোদ ককরোচ জনতা পার্টিই। ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘ইস্তফার খুশিতে।’ এই ইস্তফা যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সেটা বলাই বাহুল্য। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পরে ‘জয়’ উদযাপনে বলিউডের গানের তালে তালে নাচছেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ‘জয় উদযাপনের সময়ে আত্মঘাতী নিট পড়ুয়াদের পরিবারের কথা মনে পড়ল না?’
এই নিয়ে মুখ খোলেন সোনম ওয়াংচুকও। যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশনের পরে সরকারের লিখিত আশ্বাসের পরে অনশন ভেঙেছেন তিনি। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা পরে সিজেপি নেতৃত্বের নাচগান এবং পার্টির ভিডিয়ো দেখে অসন্তোষ গোপন করেননি। নিজের X হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘জয়ের সঙ্গে বিনয়ও থাকা উচিত। মর্যাদা, আত্মসংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই জয় উদযাপন করতে হয়।’
অবশ্য সব অভিযোগ খারিজ করে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, ঘটনাটিকে অযথা বড় করে দেখানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘ওটা কোনও ফাইভ স্টার হোটেল নয়। বড়জোর টু স্টার বা থ্রি স্টার হবে।’ টানা ৩৭ দিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা প্রায় ১৫০-২০০ জন ভলান্টিয়ার ও ছাত্রদের ধন্যবাদ এবং বিদায় সংবর্ধনা জানাতেই ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পরে গত শনিবার বিক্ষোভকারীদের সব দাবি মেনে নেয় সরকার। পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু এখনও অনেক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। অনেক শিক্ষার্থীও পুরোপুরি আইনি সুরক্ষা পাননি। সেই পরিস্থিতিতে ‘বিজয় উৎসব’ পালন কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই আবহে সোনম ওয়াংচুকের বিনয় ও আত্মসংযম বজায় রাখার বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
১. কেন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন?
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের ওপর বাড়তে থাকা চাপের জেরে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন।
২. CJP-কে ঘিরে বিতর্ক কেন?
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর একটি হোটেলে নাচ-গান ও উদযাপনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় সমালোচনা শুরু হয়।
৩. সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্য কী ছিল?
তিনি বলেন, জয় উদযাপন করা যেতে পারে, তবে তা বিনয়, মর্যাদা, আত্মসংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে হওয়া উচিত।
৪. CJP কী ব্যাখ্যা দিয়েছে?
দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, এটি বিলাসবহুল পার্টি নয়; আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৫০-২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রকে ধন্যবাদ জানাতে ছোট অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।
৫. আন্দোলনের সব সমস্যা কি মিটে গেছে?
না। অভিযোগ, এখনও অনেক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার হয়নি এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ আইনি সহায়তাও পাননি।
৬. কেন এই বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ, আন্দোলনের সাফল্যের পর উদযাপনের ধরন নিয়ে নৈতিকতা ও সংবেদনশীলতার প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সোনম ওয়াংচুকের 'জয়ের সঙ্গে বিনয়' বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।