ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর থেকে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে বিহার, অসম, রাজস্থানের সরকার। এ বার অনেকটা একই পথে হাঁটল বাংলাও। মঙ্গলবার রাতে রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোনও অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কোনও ছাড় পাবেন না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জেরে গত ২৪ জুলাই পথে নামে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরাও। ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মিছিল থেকে পুলিশ লক্ষ্য করে জুতো, পাথর, জলের বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নিগৃহীত হন বেশ কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর পরেই গত শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ধৃতদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ১৬ জন অভিযুক্তকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে প্রথমে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু তার ঠিক পরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা সামনে আসে। তখনই বদলে যায় পুরো ছবিটা। ১৬ জন অভিযুক্তেরই জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতেও শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে মূলত তিনটি নির্দেশ দিয়েছে। প্রথমত, যে সব বিক্ষোভকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক বা যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি রেকর্ড নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যাবে না। তৃতীয়ত, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তেরও নির্দেশ দেয় আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিটে প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের অভিযোগে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে আগে অপরাধমূলক রেকর্ড বা কোনও মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশঙ্কা অনেকটাই কমল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, অভিযুক্ত ১৬ জনের মধ্যে যদি কারও নামে আগে কোনও মামলা থাকে তা হলে তাঁর ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর প্রশাসনিক বা বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
'শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া' মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২৪ জুলাই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, পাথর ও জলের বোতল ছোড়া হয়েছিল এবং কয়েকজন সাংবাদিকও নিগৃহীত হন।
প্রথমে তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসার পর ব্যাঙ্কশাল আদালত ১৬ জনেরই জামিন মঞ্জুর করে।
যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড বা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না বলে সরকার জানিয়েছে।
আদালত পুলিশকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাধারণ ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। তবে যাঁদের নামে আগে থেকেই মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া আগের মতোই চলতে পারে।