উত্তরপ্রদেশের ধাঁচেই গড়ে উঠবে বাংলার পুলিশ ফোর্স!
আজকাল | ২৯ জুলাই ২০২৬
দীক্ষা ভুঁইয়াঃ উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে ১ লাখ জনসংখ্যা পিছু ২০০ জন করে পুলিশ কর্মী নিয়োগ করতে চায় রাজ্য সরকার! সেই মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ বাহিনীর শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভবানী ভবনে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিনি জানান, রাজ্যে মোট ১ লক্ষ পুলিশকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের প্রায় ৫৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু নিয়োগ নয়, পুলিশের আধুনিকীকরণেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিসিটিভি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো পুলিশ গাড়িগুলি পর্যায়ক্রমে বদলানো হবে। তাঁর অভিযোগ, বহু পুলিশ গাড়ির বয়স ১৫ বছরের বেশি হওয়ায় সেগুলির বিমা নেই। ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীরা সমস্যায় পড়েন। সেই পরিস্থিতি বদলাতে নতুন যানবাহন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কনস্টেবল পদে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে যাঁরা এখনও নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের দুর্গাপুজোর আগেই কাজে যোগ করানোর চেষ্টা করা হবে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে রাজ্যে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA) গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা কনস্টেবলদের নিজ জেলায় এবং মহিলা আধিকারিকদের ক্ষেত্রে সংলগ্ন জেলায় পোস্টিং দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাজ্যে ৫৫২টি থানা থাকলেও অধিকাংশ থানায় নিজস্ব ভবন, ব্যারাক, জিম বা যোগব্যায়ামের মতো ন্যূনতম সুযোগসুবিধাও নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় সেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এদিন পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা, "কোনও পরিস্থিতিতেই পুলিশকে ইউনিফর্ম খুলিয়ে রাজনৈতিক সভা বা মিছিলে ব্যবহার করা হবে না।" তাঁর কথায়, "পুলিশকে পেশাদার বাহিনী হিসেবেই কাজ করতে দেওয়া হবে।"