• নেশামুক্তি কেন্দ্রে ‘গণধর্ষণ’, দিনের পর দিন নারী নির্যাতন! দত্তপুকুরে গ্রেপ্তার মালিক
    প্রতিদিন | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • নেশামুক্তির নামে ওই কেন্দ্রেই ধারাবাহিক গণধর্ষণের অভিযোগ। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেপ্তার ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক। আর কারা জড়িত, সেই বিষয়ে খোঁজ করছে পুলিশ। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকায়। ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর কারা নির্যাতনের শিকার? সেই তথ্যও জানার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া ৩১ বছরের এক মহিলা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন! ধারাবাহিক তাঁকে নির্যাতন করা হত বলে অভিযোগ। ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলও করা হত! কোনওরকমে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে পালিয়েছিলেন ওই নির্যাতিতা। পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে দত্তপুকুরের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক সন্দীপন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলায় অভিযুক্ত কেন্দ্রের কর্মী অজয় সর্দার পলাতক। আজ, মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাঁকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

    পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মদের নেশা ছাড়ানোর জন্য প্রায় এক বছর আগে দত্তপুকুরের দাড়িপুকুর এলাকার ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে মহিলাকে ভর্তি করায় তাঁর পরিবার। অভিযোগ, চিকিৎসার আড়ালে তাঁকে বারবার অফিসঘরে ডেকে নিয়ে কেন্দ্রের মালিক ও এক কর্মী যৌন নির্যাতন চালাত। নির্যাতনের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতিতার দাবি, কেন্দ্রে থাকা অন্য মহিলা আবাসিকদের উপরও একই ধরনের অমানবিক আচরণ করা হত। চলতি বছরের ১৩ মে তিনি কেন্দ্র থেকে পালান। এরপরও অভিযুক্তদের হুমকি চলতে থাকে!

    সোমবার রাতে দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করানো হয়। রাতেই বারাসতের পূর্বাশা এলাকা থেকে সন্দীপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, বেআইনি আটকে রাখা, মারধর-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে পলাতক অজয় সর্দারের খোঁজ চলছে। পাশাপাশি নেশামুক্তি কেন্দ্রটির কার্যকলাপ, চিকিৎসার নামে অন্য কোনও অনিয়ম চলত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)