ধর্মতলায় ধুন্ধুমারে ধৃত ১৬ জনকেই জামিন দিত ব্যাঙ্কশাল আদালত। মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে পুলিশের তরফে ধৃতদের জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয়েছিল। ৩০ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশও দিয়েছিলেন বিচারক। কয়েক মিনিটে সুপ্রিম নির্দেশের জেরেই বদলে গেল রায়। জেল হেফাজতের নির্দেশ বদলে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করলেন বিচারক।
নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির আন্দোলনের আঁচ পড়েছে কলকাতাতেও (NEET Protest in Kolkata)। গত শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে মিছিলে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। পড়ুয়া, অভিভাবক ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন বহু মানুষ। মিছিলের শেষ পর্যায়ে নজিরবিহীন অশান্তির সাক্ষী হয় প্রতিবাদের শহর তিলোত্তমা। সাংবাদিকরা খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। পুলিশকে লক্ষ্য করে উড়ে আসে জুতো, জলের বোতল, ইট। পুলিশ দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করে। সেই ঘটনায় একে একে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৬ জুলাই তাঁদের আদালতে তোলা হলে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। মঙ্গলবার ধৃতদের ফের তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। পুলিশের তরফে ধৃতদের জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয়। তা মঞ্জুর করেন বিচারক।
এরই মধ্যে গ্রেপ্তারি নিয়ে বড় নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেসব আন্দোলনকারীদের বয়স আঠেরো বছরের নিচে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। যাদের অতীতে কোনও অপরাধের নজির নেই, মুক্তি দিতে হবে তাদেরও। শীর্ষ আদালত আরও জানায়, প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত এফআইআর দায়ের হয়েছে তার ভিত্তিতেও কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। এই নির্দেশ পৌঁছতেই ধর্মতলা কাণ্ডে ধৃতদের আইনজীবী ফের জামিনের আবেদন করেন। যদিও কলকাতায় অশান্তির ধৃতদের মধ্যে কেউ নাবালক নন, তবে পুলিশের তরফে জানানো হয় রাজ্য অভিযুক্তদের রাখতে চায় না। এরপরই জেল হেফাজতের সিদ্ধান্ত বদলে ধৃতদের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট। ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন তাঁরা।