কেন্দ্রের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রহ্লাদ জোশী। তার পরে ৭২ ঘণ্টাও কাটেনি। তাঁকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা ধর্ষকদের পক্ষ নেন, তাঁদের থেকে নোংরা মানুষ আর হয় না।’ প্রহ্লাদকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া’ বলেও কটাক্ষ করেন রাহুল।
বিলকিস বানো মামলায় প্রহ্লাদ জোশীর একটা মন্তব্যকে ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। ২০২২-এ ওই ধর্ষণ মামলায় ১১ জন সাজাপ্রাপ্তকে আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাট সরকার। যদিও সেই আদেশ রদ করে দোষীদের ফের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু গুজরাট সরকারের নির্দেশকে প্রহ্লাদ সমর্থন করেছিলেন বলে অভিযোগ।
সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সেই ঘটনাটি টেনেই নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে রাহুল বলেন, ‘দেশের ছাত্রছাত্রীরা যখন শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তখন কেন্দ্রীয় সরকার এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করল, যিনি ধর্ষকদের পক্ষ নেন।’ এখানেই থামেননি তিনি। রাহুল বলে দেন, ‘তিনি নোংরা মানসিকতার মানুষ।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মন্ত্রিসভায় কি আর কোনও যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন না? এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’
শুধু রাহুল নন, লোকসভায় একই ইস্যুতে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে সোমবার সংসদে যান ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদরা। এমনকী ‘প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগানও উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এটা লজ্জার বিষয়। সবাই জানেন ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন। অথচ তাঁকে এমন ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলো, যেন তিনি সুপারস্টার।’
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আক্রমণের জবাবে তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রহ্লাদ জোশী। সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমি এর বিরোধিতা করছি।’ উল্লেখ্য দীর্ঘ অচলাবস্থার পরে এ দিন লোকসভায় Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, ‘কঠোর শাস্তির বিধান এবং তিন মাসের মধ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচারের ব্যবস্থা পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে কার্যকর হবে।’ তাঁর দাবি, এই আইন দেশের কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে।
প্রশ্ন: রাহুল গান্ধী কেন প্রহ্লাদ জোশীকে আক্রমণ করেন?
উত্তর: বিলকিস বানো মামলার দোষীদের আগাম মুক্তি নিয়ে প্রহ্লাদ জোশীর ২০২২ সালের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে কটাক্ষ করেন রাহুল।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীকে কী বার্তা দেন রাহুল?
উত্তর: প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষামন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে ‘অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রিসভায় অন্য কোনও যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন না কি।
প্রশ্ন: প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ কী ছিল?
উত্তর: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সংসদে তাঁকে যেভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
প্রশ্ন: প্রহ্লাদ জোশী কী জবাব দিয়েছেন?
উত্তর: তিনি সব অভিযোগ খারিজ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: লোকসভায় এ দিন কোন বিল নিয়ে আলোচনা হয়?
উত্তর: পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রশ্ন: বিল নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য কী?
উত্তর: কেন্দ্রের দাবি, কঠোর শাস্তি এবং তিন মাসের মধ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার শেষ করার বিধান পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর হবে।
প্রশ্ন: বিলটির উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম রুখে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা।