NEET প্রশ্নপত্র কাণ্ডে কড়া এবং দ্রুত পদক্ষেপ করার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গেই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই মামলার বিচার বলেও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরেই নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করল সিবিআই। গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।
কী অভিযোগ করেছে সিবিআই?
CBI সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট এবং পাবলিক এক্সামিনেশন (Prevention of Unfair Means) অ্যাক্ট, ২০১৪-এর আওতায় মামলা রুজু হয়েছে। এই চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষী, ৪২২টি নথি এবং ৪৩টি বস্তুগত প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। ধৃত ১৩ জনই এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন।
নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে মামলা
সিবিআই সূত্রে খবর, গত ৩ মে নিট-র প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে ১২ মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা দপ্তর। অভিযোগের ভিত্তিতেই সেদিনই এফআইআর দায়ের করে CBI। এর পরে ৭২ জন অফিসার এবং ৮ জন সাইবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একাধিক দল গঠন করা হয়। তল্লাশি চালানো হয় মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ৯২টি জায়গায়। সেখান থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের যন্ত্র, নথি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই সব প্রমাণের ফরেন্সিকের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সিবিআই-এর দাবি, মামলা রুজুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রশ্ন ফাঁসের উৎস এবং তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর পিছনে গোটা চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।
কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
এই ঘটনায় প্রথম গ্রেপ্তার হয় ১৩ মে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এমন ৩ জন যাঁরা NTA-এর বিষয় বিশেষজ্ঞ ছিলেন। কেমিস্ট্রি, বায়োলজি এবং ফিজিক্স-এর বিশেষজ্ঞ ছিলেন তাঁরা বলে জানা গিয়েছে। এরই সঙ্গে প্রশ্নপত্র জোগাড় ও বিলির সঙ্গে যুক্ত একাধিক দালালও ধরা পড়েছে। কোচিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত ২ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা ওই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ।
সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখে সিবিআই। এর পরেই তাঁদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ব্যাঙ্কের লকার এবং একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেন্সিক রিপোর্ট, হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের মতামত সংগ্রহ করেছে সিবিআই। সেই রিপোর্টেই পরীক্ষার আগেই অভিযুক্তরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়েছিলেন বলে প্রমাণ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন আধিকারিকরা।
সিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এখনও চলছে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ করবে সিবিআই বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এক নজরে
FAQ
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কী করল সিবিআই?
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে চার্জশিট জমা করেছে সিবিআই।
কাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে?
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ধৃতদের নামেই চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই।
কবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়?
নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় ৩ মে। এই নিয়ে গত ১২ মে অভিযোগ দায়ের করে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক।
কোথায় তল্লাশি চালানো হয়?
অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ দল গঠন করে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ৯২টি জায়গায় তল্লাশি চালায় সিবিআই।
কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
ধৃত ১৩ জনের মধ্যে তিন জন NTA-এর বিষয় বিশেষজ্ঞ। একাধিক দালাল এবং কোচিং সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ধৃতদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই সঙ্গেই আরও কয়েকটি মামলা যুক্ত হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।