স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান ছিল মেদিনীপুর। এই শহরেই, ব্রিট্রিশ আমলে হত্যা করা হয়েছিল তিন জেলাশাসককে। এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষুদিরাম বসু-সহ একাধিক স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম। সেই শহরেই, জেলাশাসকের বাংলোর নাম থেকে গিয়েছে ইংরেজ শাসকের নামে। ওই বাংলোর নামকরণ হয়েছে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন্ট হেস্টিংস-এর নামে। এই বাংলোকে ‘হেরিটেজ ভবন’-এর স্বীকৃতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন। সেই ভবনের নাম একাধিকবার বদল করার দাবি উঠেছে। সামনেই স্বাধীনতা দিবস। তার আগেই এই ভবনের নাম পরিবর্তন চেয়ে সরব হয়েছেন মেদিনীপুরে বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। ওই ভবনের নাম ‘হেস্টিংস হাউস’ বদলে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই নাম পরিবর্তন চেয়ে, মঙ্গলবার, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের আছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এই আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা।
স্বাধীনতা আন্দোলনে মেদিনীপুর
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে বিপ্লবীদের আঁতুড়ঘর ছিল মেদিনীপুর। এখানেই গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একাধিক আস্তানা। মেদিনীপুর শহরেই বেড়ে উঠেছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। এখানেই তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামে দীক্ষাগ্রহণ। পর পর তিন বছরে বিপ্লবীরা হত্যা করেন তিন জেলাশাসককে। স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশ যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখন মেদিনীপুরের বহু বিপ্লবী এই স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়ে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।
ইংরেজ শাসকের নামে জেলাশাসকের বাংলো
তবে, সেই মেদিনীপুর শহরেই জেলাশাসকের বাংলোর নাম থেকে গিয়েছে ব্রিটিশ আমলের শাসকের নামে। ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর এবং পরে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন্ট হেস্টিংস। তাঁর নাম অনুসারে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের বাংলোর নাম হয়েছে ‘হেস্টিংস হাউস’। জেলাশাসকের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই ভবন। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন এই হেস্টিংস হাউসকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেয়।
নাম পরিবর্তনের দাবি
আগেও এই বাংলোর নাম পরিবর্তন করার দাবি উঠেছে। এ বার এই দাবি করেছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক। আগামী মাসেই স্বাধীনতা দিবস। তার আগেই এই ভবনের বদল করে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ করার আবেদন জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। তিনি বলেন, ‘অখণ্ড মেদিনীপুর জেলা স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। আর এই এলাকা শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর গর্বের ভূমি। তাঁর দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগ আজও সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। এখানে জেলাশাসকের বাংলোর নামটি ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের স্মারক। স্বাধীনতার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার জেলায় জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নাম এমন হওয়া উচিত যা একটি স্বাধীন দেশের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও আকাঙ্খাকে প্রতিফলিত করে, উপনিবেশিক অতীতকে নয়। তাই ক্ষুদিরাম বসুর নামে এই বাংলোর নামকরণ হলে তা তাঁকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা জানানো হবে।’ স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় গৌরবের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে জেলা প্রশাসন এই নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে আশা তাঁর।
সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত
এই বাংলোর নাম বদল করার বিষয়টি অনেক দিনের দাবি। আগেও অনেকেই এই দাবি জানিয়েছেন। এ বার এই আবেদনের বিবেচনা করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক।
এক নজরে:
FAQ
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের বাংলো কার নামে?
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের বাংলোর নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন্ট হেস্টিংস-এর নামে।
কী নাম জেলাশাসকের বাংলোর?
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের বাংলোর নাম ‘হেস্টিংস হাউস’।
কবে তা হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি পেয়েছে?
২০২১ সালে ‘হেস্টিংস হাউস’কে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন
এ বার কী দাবি করা হয়েছে?
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের বাংলোর নাম পরিবর্তন করার দাবি করা হয়েছে।
কে এই দাবি করেছেন?
এই দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত।
কার নামে এই বাংলোর নামকারণ করতে বলা হয়েছে?
এই ভবনে নাম বদলে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ করার আবেদন জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক।
কেন এই দাবি করা হয়েছে?
মেদিনীপুর শহরে বেড়ে ওঠার পাশপাশি এখানে স্বাধীনতা সংগ্রামের দীক্ষা নিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। ক্ষুদিরাম বসুর নামে এই বাংলোর নামকরণ হলে তা তাঁকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা জানানো হবে।