‘ছাত্র-যুবরা আন্দোলন করে দেখিয়ে দিয়েছে বিজেপি ফেল’, সংসদে আক্রমণ অভিষেকের
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সংশোধনী বিলের আলোচনায় মঙ্গলবার লোকসভায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির বেঁধে গেল বচসা। তৃণমূলের বক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মোদি সরকারকে ব্যর্থ সরকার বলে তোপ দাগছেন, তখন ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সৌমিত্র খাঁ, সঞ্জয় জয়সওয়াল, সতীশ গৌতমের মতো বিজেপি সাংসদরা পালটা সরব হন। তাঁদের কটাক্ষ, কে আমাদের সমালোচনা করছে? যারা নিজেরাই দুর্নীতি, সিন্ডিকেটে জড়িত। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কথা কে না জানে। তাই আগে নিজেদের দিকে দেখুন। তারপর সমালোচনা করবেন।
বিজেপির বারবার বাধায় ক্ষেপে ওঠেন অভিষেক। প্রতিবাদ করেন মহুয়া মৈত্র। নিজের আসন ছেড়ে স্পিকারের চেয়ারের দিকে এগিয়ে এসে বলেন, এটা কী হচ্ছে? কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে? সরব হন কেসি বেণুগোপাল, ধর্মেন্দ্র যাদব, কানিমোঝি, সুপ্রিয়া সুলের মতো বিরোধীরা সাংসদরাও। সংসদে তারা যে বিজেপি বিরোধিতায় একজোট, তা দেখিয়ে দিল কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, এনসিপি (এসপি)র মতো দল। উত্তাল হল সংসদ। অভিষেক বলেন, নতুন সংশোধনী বিলকে সমর্থন করছি। তবে তার মানে এই নয় যে, সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে চুপ থাকব। সাজা আর জরিমানা বাড়ালেই কোনো আইন কঠোর হয় না। মূল ক্রাইম বা অপরাধ কী করে আটকানো যাবে, সে ব্যাপারে সরকারে ব্যর্থ। ছাত্র-যুবরা আন্দোলন করে দেখিয়ে দিয়েছে, বিজেপি ফেল। লাঠি, গুলি, ডাণ্ডা দিয়ে তরুণদের থামানো যাবে না। সমালোচনার সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘সরকার প্রচার করে অমৃতকাল। আসলে এটি অ্যাংজাইটি কাল। উদ্বেগের কাল।’
অন্যদিকে, এনডিএ’র শরিক বলে নিজেদের দাবি করলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্যের প্রশ্নে আপস করতে নারাজ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ মালা রায় এবং দীপক অধিকারী। মনরেগায় বাংলার বকেয়া মেটাতে কেন্দ্র কী করেছে, লিখিত প্রশ্ন রেখেছিলেন উভয়ে। জবাবে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান জানিয়েছেন, তিন বছর মনরেগায় বাংলাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তবে গত ১ জুনের পর দেওয়া হয়েছে ৩৪৬ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। নতুন প্রকল্প ভিবি-জিরামজি’র জন্য চলতি অর্থবর্ষে অনুমোদন করা হয়েছে ৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। কিন্তু মনরেগার বকেয়া? টুঁ শব্দটি করেননি মন্ত্রী।