পাহাড়ের বিকল্প রোহিণী ও সার্কুলার রোড অত্যাধুনিক করবে রাজ্য সরকার
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বিকল্প সড়কের দাবি বহুদিনের। তাই রাজনৈতিক পালাবদলের মাত্র দু’মাসেই পাহাড়ে দু’টি বিকল্প ‘লাইফ লাইন’ চাঙ্গা করতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেগুলি হল রোহিণী ও সার্কুলার রোড। জিটিএ’র কাছ থেকে রাস্তাগুলির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকারের পূর্তদপ্তর। ইতিমধ্যে তারা এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও চা শিল্পের বিকাশেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। একই সঙ্গে ধসপ্রবণ পাহাড়ে মোতায়েন করবে ১০০ অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। তাঁদের জন্য জিটিএ’কে তাঁবু তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পাহাড়ে যাওয়ার অন্যতম রাস্তা ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এই রাস্তায় যানজট ক্রমবর্ধমান। যারজেরে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর মোকাবিলায় পাহাড়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির দাবি বহুদিনের। এবার সেই দাবি পূরণ করতে চলেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার।
প্রশাসন সূত্রের খবর, কৌশলগত কারণে রোহিণী ও সার্কুলার রোড আধুনিকীকরণ করা জরুরি। এজন্য রাস্তাগুলির দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করে জিটিএ কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জুন তারা এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি প্রদান করে। তা বিবেচনা করেই রাস্তাগুলির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে পূর্তদপ্তর। সোমবার তারা এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। রোহিণী রোড ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ১২ রাজ্য সড়কের শিমুলবাড়ির কাছে মিলেছে।
আর লেবং বাজার থেকে রাঙারুন টি এস্টেট হয়ে তৃতীয় মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত সার্কুলার রোড। বর্তমানে সড়ক দু’টি পূর্তদপ্তরের দার্জিলিং হাইওয়ে ডিভিশনের অধীনে। সড়ক দু’টির সার্বিক উন্নতি, শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকীকরণের ডিপিআর প্রস্তুত করা হবে।
রোহিণী রোড বিভিন্ন সময় ধসবিধ্বস্ত হয়। ধসের জেরে গত বছর দীর্ঘদিন রাস্তাটি বন্ধ ছিল। এবার সেই রাস্তা পাকাপাকিভাবে সংস্কার হলে পাহাড়বাসীর ব্যাপক উপকার হবে বলে স্থানীয়দের দাবি। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, রোহিণী ও সার্কুলার রোড দু’টি পাহাড়ের লাইফ লাইন হিসাবে চিহ্নিত। এগুলি তৈরি হওয়ার পর স্থানীয়দের যেমন উপকার হবে, তেমনি পাহাড়ের যানজট নিয়ন্ত্রণ হবে। পর্যটন ও চা শিল্পের বিকাশে হবে।
এদিকে, সমগ্র পাহাড় ধসপ্রবণ। ফি বর্ষায় ধসে জেরবার হয় পাহাড়। তাই ধস সহ যে কোনো বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের কাজে লাগাতে চায় রাজ্য সরকার। তাই তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০০ জন অবসর সেনা জওয়ানের টিম পাহাড়ে সর্বক্ষণ মোতায়েন রাখতে চাইছে। আর বন্যার সময় উদ্ধার কাজ চালাতে সমতলের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে ওয়াটার উইংয়ের সদস্যদের।