• লক্ষ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, কিউআর স্ক্যান করলেই মিলবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ, তিনটি জায়গা চিহ্নিত গাজোল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: গাজোল বাজারে গিয়েছেন, অথচ ব্যাগ আনতে ভুলে গিয়েছেন! কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে হাতে কিছু নেই? ব্যাগ আনতে আর কাউকে বাড়ি ছুটে যেতে হবে না। বাজারের মধ্যে বসানো থাকবে মেশিন। নাম ক্লথ ভেন্ডিং মেশিন। সেখানে দেওয়া থাকবে কিউআর কোড। তা মোবাইল ফোনের সাহায্যে স্ক্যান করলেই মেশিন থেকে বেরিয়ে আসবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে গাজোল ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। গাজোল সদরে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার কমাতে এই উদ্যোগ। উপপ্রধান প্রদ্যুৎ সর্দার বলেন, জেলার কোনো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সম্ভবত এই ব্যবস্থা নেই। আমরাই প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছি। জনবহুল ও বাজার ঢোকার মুখে ক্লথ ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। সেখানে কিউআর কোড থাকবে। স্ক্যান করে টাকা দিলেই পরিবেশবান্ধব ব্যাগ মিলবে। সেই ব্যাগ চট কিংবা কাপড়ের হতে পারে। শীঘ্রই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। 

    ইতিমধ্যে এমন মেশিন বসানোর জন্য তিনটি জায়গা চিহ্নিত করে ফেলেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। গাজোল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদরের কদুবাড়ি, ভিতর বাজার, সরকার পাড়ার মোড়ে এই মেশিন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এর জন্য খরচ হবে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজেটে তা ধরা হয়েছে। ফান্ডের টাকা এলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। শুধু কিউআর কোড না, ওই মেশিনে খুচরো ফেলারও ব্যবস্থা থাকবে। কয়েন দিলেও ব্যাগ বেরিয়ে আসবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে কত টাকা দিতে হবে? তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মেশিন বসানোর আগে তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো যাবে, তেমনি ব্যাগ বিক্রি করে পঞ্চায়েতেরও আয় বাড়বে। 

    রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই গাজোলকে পুরসভা ঘোষণা করা হয়েছে। গাজোল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদর এলাকা পুরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই এলাকায় একাধিক বাজার রয়েছে। বৃহস্পতিবার হাটও বসে। বাইরের জেলা থেকেও ক্রেতারা আসেন। অভিযোগ, হাটে-বাজারে দেদারে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হয়। অভিযান চালিয়েও প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে জোর দিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের এই পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। গাজোলের শিক্ষক পরিবেশকর্মী পলাশ সরকার বলেন, যেভাবেই হোক প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতেই হবে। তাতে সবার মঙ্গল। মানুষকেও সচেতন হতে হবে। • ফাইল চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)