তারক চক্রবর্তী, মালদহ: নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যা ত্রাণের সরকারি টাকা নয়ছয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ বারবার ওঠে মালদহ জেলায়। রাজ্যে পালাবদলের পর এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক সংগঠন আবেদন করেছিল। যে কোনো দুর্নীতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অবস্থায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যা ত্রাণের টাকার নয়ছয় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। এদিকে, পূর্বতন সরকারের আমলে নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং ত্রাণের যে টাকা এসেছিল, তার কতটা খরচ হয়েছে, স্পষ্টভাবে এখনও জানাতে পারেননি দপ্তরে আধিকারিকরা। এমনকি দপ্তর থেকে নানা সময়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফাইল লোপাট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন খোদ রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী তথা হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মু।
মন্ত্রী জোয়েলের বিস্ফোরক অভিযোগ, ভাঙন রোধে এবং ত্রাণের অর্থ কোথায় কত খরচ হয়েছে, তা জানার জন্য ফাইল আনতে বলা হলে তা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মালদহ জেলা প্রশাসনের ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে এসে এমনটাই দাবি করেছেন সেচ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ফাইল লোপাট কাণ্ডের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা রেহাই পাবে না। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে মন্ত্রী থেকে আমলা-যাঁরাই জড়িত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়, কোথায় কত আর্থিক তছরুপ হয়েছে, তা জানতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্বতন সরকারের সেচ প্রতিমন্ত্রী তথা সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। বর্তমান সেচ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবিনা বলেন, প্রতিমন্ত্রীর হাতে তেমন ক্ষমতা থাকে না। আমার কাছে সেই ধরনের কোনো ফাইল আসত না। এরপরও যদি কোনো অভিযোগ আসে তদন্তে অবশ্যই সাহায্য করব।
প্রতি বর্ষায় মালদহ জেলার মানুষ গঙ্গা, ফুলহার নদী ভাঙনে আতঙ্কে থাকেন। আজও ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ, বর্ষা এলেই অস্থায়ীভাবে ভাঙন মোকাবিলার কাজ হয়। আর এই কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন অনেকে। প্রতিবছর গঙ্গাপাড়ের মানুষ তাই ক্ষোভও উগরে দেন। তাঁদের দাবি, নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যার ত্রাণের টাকা কার্যত লুট হয়েছে। কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি বিধায়করা। এবছরও ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এদিন মানিকচকের মথুরাপুরে নদী ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। নদী ভাঙনের জন্য কত বরাদ্দ রয়েছে এবং কাজ কতদূর চলছে, সেটাও খতিয়ে দেখেন। নদী ভাঙন রোধে সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে স্থানীয়দের জানান মন্ত্রী।