নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ইকো ক্লাব নথিভুক্তিতে মুর্শিদাবাদের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির খুব একটা সাড়া মিলছে না। জেলার ৬৬৬৯ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৩৪১৪ টি বিদ্যালয় নোটিফিকেশন নথিভুক্ত করেছে। অর্থাৎ মোট বিদ্যালয়ের ৫১.১৯ শতাংশ নথিভুক্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে, মুর্শিদাবাদ জেলার ৪১ টি চক্রের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুতি-১ চক্র। তারা ১০০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে রঘুনাথগঞ্জ চক্র। সেখানে মাত্র ২৩ শতাংশ বিদ্যালয় নথি আপলোড করেছে। ‘ইকো ক্লাব ফর মিশন লাইফের’ মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থী ও সমাজের মধ্যে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা। শিক্ষা দপ্তর এবং রাজ্যের সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে একাধিক কার্যক্রম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই কার্যক্রম পালন করে রিপোর্ট আপলোড করতে হবে পোর্টালে। কিন্তু সেই কাজ খুব একটা এগয়নি বলেই খবর।
বিদ্যালয়গুলিতে ইকো ক্লাব কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, দূষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার করে পড়ুয়াদের সঠিক জীবনযাপনে উৎসাহ প্রদান। জল, বিদ্যুৎ ও কাগজের সাশ্রয়ী ব্যবহারসহ পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর প্রচার করা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা এবং স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করা। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয় করতে হবে।অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান ও কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে হবে পড়ুয়াদের।
জেলার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অরণ্য সপ্তাহ উদযাপনের সময় থেকে অনেক স্কুল এই কার্যক্রম চালালে বহু স্কুল এখনও পরিকল্পনা করে পোর্টালে রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি। ফলে মুর্শিদাবাদে এখনও ৪৯ শতাংশ স্কুল নাম নথিভুক্ত করতে পারেনি। ফলে কিছুটা হলেও হতাশ শিক্ষামহল।