• গোলামদের চাকরির টোপে বিদেশে, সাইবার চাঁইদের খপ্পরে ভারতীয়রা
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মানব পাচার নিয়ে এনআইএ তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোটা টাকার চাকরির টোপ দিয়ে বিদেশে ভারতীয়দের পাচার করত দুর্গাপুরের গোলাম জামার মতো পাচারকারীরা। তাঁদের যাবতীয় নথি বানিয়ে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে বেকার যুবকদের মসিহা হয়ে উঠত গোলামরা। বিদেশে গেলেই ভুল ভাঙত তাঁদের। সৎপথে রোজগারের কোনো বন্দোবস্ত নেই। তাঁদের দিয়ে জোর করে সা‌ইবার প্রতারণার কাজ করানো হতো। আমেরিকা, ব্রিটেন সহ বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের ফোন করিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার কাজ দেওয়া হতো ভারতীয়দের। সেটা না চাইলে জুটত প্রাণনাশের হুমকি। গোলামদের মতো এজেন্টরাও হুমকি দিত। 

    মানব পাচারের এই চক্রটি এনআইএর নজরে প্রথম আসে গত বছরের শেষদিকে। ডিসেম্বর মাসে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, হরিয়ানার এক বাসিন্দা সুনীল কুমার চেন্নাই থেকে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। হরিয়ানার অঙ্কিত ভরদ্বাজ তাঁকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। থাইল্যা঩ন্ডে নামার পর তাঁকে অপহরণ করে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কল সেন্টারে রেখে তাঁকে দিয়ে সাইবার প্রতারণার কাজ করানো হতো। সুনীল এভাবে লোক ঠকানোর কাজ করতে চাইতেন না। তখন তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সাহায্যে তিনি থাইল্যান্ডে এসে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। ভারত সরকার তাঁকে  দেশে ফিরিয়ে আনে। তারপরই এনআইএ মামলা রুজু করে। এই মানব পাচার চক্রের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত ছিল দুর্গাপুরের মেনগেটের অদূরে নিউ স্টিল পার্কের বাসিন্দা গোলাম জামা। তার দায়িত্ব ছিল বাংলা, ছত্রিশগড় থেকে যুবকদের বিদেশে পাঠানো। এমনকী, ভুয়ো পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার কাজও সে করত বলে অভিযোগ। এনআইএ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করতেই দেশ ছাড়ে গোলাম। এক প্রতিবেশী জানিয়েছে, ফোন নম্বর পাল্টে মালয়েশিয়ায় গা ঢাকা দিয়েছিল। প্রায় চার মাস পর গোলাম মনে করে তদন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর ফের দুর্গাপুরে ফিরে আসে সে। সাইকেলের টায়ার সারাইয়ের ছোট গ্যারাজে কাজ করা শুরু করে। দেশে ফেরার খবর এনআইএ অফিসারদের কাছে আস঩তেই সোমবার এলাকার ঘিরে অভিযান চালায় এনআইএ অফিসাররা। তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন এনআইএ আধিকারিকরা।
  • Link to this news (বর্তমান)