‘এখনও নিট প্রতিবাদ নিয়ে গেরুয়া মিছিল?’ পরপর দু’দিন ভোগান্তি, হয়রানিতে ক্ষোভ শহরে
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সোমবারও জ্যাম ছিল, মঙ্গলবারও জ্যাম। আচ্ছা মুশকিলে পড়া গেল তো! দুপুরে শিয়ালদহ বা ধর্মতলায় কাজে যাওয়াই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মঙ্গলবার মৌলালি ক্রসিংয়ে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে বিরক্তি উগরে দিলেন মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভ অর্ণবাংশু সেন।
যানজটের কারণ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদ ও অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের মিছিল। নিট আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতা চলছে এই অভিযোগে মঙ্গলবার দু’টি মিছিলের ডাক দিয়েছিল এই দুই রাষ্ট্রবাদী সংগঠন। হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে জোড়া মিছিল হয়। যা ধর্মতলায় গিয়ে মেশে। এর জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের দু’টি প্রধান রাস্তা। প্রসঙ্গত সোমবার শিয়ালদহ থেকে প্রতিবাদ মিছিল করেছিল বিজেপি। সপ্তাহের প্রথম দুই কাজের দিন দুপুরভর মিছিলের জেরে মধ্য কলকাতা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে ক্ষোভ ব্যক্ত করে সাধারণ মানুষ।
সোমবার মিছিল শুরু হয়েছিল শিয়ালদহ স্টেশন থেকে। দুপুর তিনটে থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত শিয়ালদহ, মৌলালি, এসএন ব্যানার্জি রোড, ডোরিনা ক্রসিংয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। এর জেরে মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ব্যাপক ভোগান্তির শিকার মানুষ। মঙ্গলবারও একই ইস্যুতে দুপুর ১টা নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল শুরু করে এবিভিপি ও এডিআরএসএম। দুই সংগঠনের নেতাদের দাবি, নিট প্রতিবাদের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতা চলছে। দেশের ভাবমূর্তি ভাঙার চেষ্টা করছে টুকরে টুকরে গ্যাং। প্রসঙ্গত শুক্রবার কলকাতায় নিটে প্রশ্ন ফাঁসের বিরোধিতায় আন্দোলন করেন বাম ছাত্র-ছাত্রীরা। তারপর সোম ও মঙ্গল বিক্ষোভ কর্মসূচি করে এবিভিপি, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাধিক সংগঠন।
মঙ্গলবার মিছিলের জেরে দুপুর ১২টা থেকে দু’টো পর্যন্ত মৌলালি চত্বর স্তব্ধ হয়ে যায়। অমৃত সিং নামে এক ক্যাবচালক বলেন, ‘এমনিতেই দুপুরে যাত্রী পাওয়া যায় না। তার উপর প্রতিদিন মিছিল হলে পেটের ভাত জুটবে না।’ এদিন শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলাগামী বাস সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে হাওড়া ব্রিজ থেকে ধর্মতলামুখী অন্য মিছিলটি ব্রেবোর্ন রোড, ডালহৌসি হয়ে ধর্মতলায় আসে। ফলে শিয়ালদহ, ব্রেবোর্ন রোড, এম জি রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শিয়ালদহের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোজ মিছিল হচ্ছে বলে ব্যবসা মার খাচ্ছে। নিটের প্রতিবাদের তো ফয়সালা হয়ে গিয়েছে দিল্লিতে। তারপরও শহরে বারবার মিছিলের কি সত্যিই প্রয়োজন আছে?’ নিজস্ব চিত্র