হাওড়া শহরে নিকাশি সংস্কারে বাড়তি জোর, অভিযোগ জানাতে চালু হল হেল্পলাইন নম্বর
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: টানা বৃষ্টিতে জল জমায় বিপর্যস্ত হাওড়া শহরের জনজীবন। ধারাবাহিকভাবে পাম্প চালিয়েও বহু এলাকায় নিকাশিনালা উপচে বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ছে জল। এই পরিস্থিতিতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কারে ইতিমধ্যেই বড়ো প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এবার শহরের নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানে চালু হল হাওড়া পুরসভার বিশেষ হেল্পলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা। মঙ্গলবার শরৎসদনে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সঞ্জয় সিং, রুদ্রনীল ঘোষ, হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে হাওড়া শহরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মোট ২২টি ফোন আসে। এর মধ্যে ১৬টি অভিযোগই ছিল জল জমা সংক্রান্ত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আগেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিআর ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিধায়ক সঞ্জয় সিংয়ের তদারকিতে শহরের প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত লোকবল ও মেশিন নামিয়ে নিকাশি থেকে পলি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গাপুজোর আগেই শহরের ছোটো-বড়ো সব রাস্তার সংস্কার ও মেরামতির কাজ শেষ করা হবে। এই কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। একইসঙ্গে পুরসভায় পর্যাপ্ত আধিকারিক না থাকায় সেই অভাব মেটাতে কেএমডিএ থেকে ১৫ জন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
এদিন হাওড়া পুরসভার তরফে ৬২৯৩৭০৮৯৭৬— এই নম্বরে একটি বিশেষ হেল্পলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা চালু করা হয়। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভিযোগ এই নম্বরে সরাসরি জানাতে পারবেন নাগরিকরা। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরেই বিগত সরকারের আমলে হাওড়া পুরসভার সাফাই বিভাগ নিয়ে সরব হন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর দেখা যায়, হাওড়া পুরসভার বহু সাফাই কর্মী নিয়মিত কাজে আসেন না। অন্তর্তদন্তে দেখা যায়, শতাধিক ‘সাফাই বন্ধু’ শুধুমাত্র খাতায়-কলমে নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে তাঁরা কাজ করেন না। আগের সরকারের মদতপুষ্ট এমন অযোগ্য কর্মীদের ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উমেশ রাই বলেন, প্রথম পর্যায়ে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।