• বাংলার নতুন প্রজন্মকে দেশভাগের ‘প্রকৃত ইতিহাস’-এর পাঠ দিতে চায় মোদি সরকার
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রামকে সম্মান জানাতে আগামী ১৪ আগস্ট পালিত হবে ‘পার্টিশন হরর রিমেম্বারেন্স ডে’ (দেশভাগের যন্ত্রণার স্মৃতিচারণ দিবস)। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এবছর এই দিনে কলকাতায় জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। এর মাধ্যমে বিশেষত নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশভাগের ‘প্রকৃত ইতিহাস’ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। সেই সঙ্গে দেশভাগে ক্ষতিগ্রস্ত কোটি মানুষের সহনশীলতা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরা হবে। 

    কিন্তু পশ্চিমবঙ্গকেই কেনে বেছে নিল কেন্দ্র? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দেশভাগের যন্ত্রণা যে ক’টি রাজ্যকে সব থেকে বেশি পোহাতে হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। সেই কারণে এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গই কেন্দ্রের প্রথম পছন্দ। তবে এক্ষেত্রে রাজ্যে পালাবদলের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন করে এ রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভুমিকা বাংলার মানুষের সামনে তুলে ধরেছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট মূর্তি তৈরির ভূমিপূজা করে গিয়েছেন। সামনেই স্বাধীনতা দিবস। শাসক শিবিরের দাবি, দেশের স্বাধীনতা নিয়েও তৎকালীন সময়ের গেরুয়া নেতৃত্বের ভূমিকায় অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দেশভাগ এবং স্বাধীনতা সম্পর্কে ‘প্রকৃত তথ্য’ তুলে ধরার উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

    সূত্রের খবর, গত ২৩ জুলাই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সচিব বিবেক আগরওয়াল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে ১৪ আগস্ট কলকাতার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠান হবে। কেন্দ্রীয় সচিবের চিঠিতেই বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ দেশভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির অন্যতম’ হওয়ায় কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের জন্য ১৩ আগস্ট দেশভাগ এবং তার ভয়াবহতা বিষয়ক বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজিত হবে। মূল অনুষ্ঠানে হবে পরের দিন। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ওই দিন মূল অনুষ্ঠানের আগে দেশভাগের উপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করবে কেন্দ্র। দেশভাগে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের স্মৃতির উদ্দেশে দু’মিনিট নীরবতা পালন, দেশভাগের ইতিহাস ও মতুয়া সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভাজনের শিকার হওয়া মানুষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হবে মোমবাতি মিছিল।

    এতদিন মূলত দিল্লিতেই পালিত হয়েছে এই জাতীয় কর্মসূচি। দেশের সমস্ত রাজ্যকেও কর্মসূচি পালনের আরজি জানাত কেন্দ্র। পালাবদলের পর এবারই প্রথম এই দিবস পালন হবে রাজ্যে এবং তা জাতীয় স্তরের মূল অনুষ্ঠান। 
  • Link to this news (বর্তমান)