পুলিশ অনুমতি দেয়নি, মহানগরে বাম ছাত্রদের মিছিলের রুট পরিবর্তন
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত শুক্রবারের পর মঙ্গলবার ফের পথে নামল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে এদিন মিছিলের আগে থেকেই কলকাতা পুলিশের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছিল বাম ছাত্রসংগঠনগুলির। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত ‘শপথ মিছিল’ করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সংগঠনের নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশ আচমকাই শ্যামবাজার থেকে তাদের মিছিলের অনুমতি বাতিল করে দেয়। এদিন সকালে প্রতিনিধি দল লালবাজারে গিয়েও আলোচনা করে। পরে কলেজ স্ট্রিটের বাটা মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিল খানিক এগোতে ফের পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে বাম ছাত্রনেতারা। মিনিট পনেরোর কথা শেষে নেতৃত্বর পছন্দের পথেই মিছিল যায়।
ছাত্র নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ বলছে, আগের দিনের মিছিলের ঝামেলার জন্য রুট ছোট করেছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘আংশিক’ জয় বলে মনে করছেন ছাত্র নেতৃত্ব। এখন তাঁদের দাবি, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (এনপিএ) বাতিল করতে হবে। বাটা মোড় থেকে সোজা না এসে মিছিল এম জি রোড হয়ে কফি হাউসের পাশ দিয়ে কলেজ স্কোয়ারে শেষ হয়। সেখানে সভাও করেন ছাত্র নেতৃত্বরা। যদিও শুক্রবারের তুলনায় এদিনের মিছিলে খুব একটা ভিড় হয়নি। মিছিল শেষের সভায় বক্তব্য রাখেন এসএফআই, আইসা, ডিএসও, এআইএসএফ, পিএসইউ প্রভৃতি বাম সংগঠনের নেতৃত্ব। সভা চলাকালে খবর আসে, দিল্লিতে সিপিএমের সদর দপ্তরে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব ঐশী ঘোষের খোঁজে পুলিশ গিয়েছে। সভা থেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে এবং অন্য ছাত্র নেতারা। দেবাঞ্জন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সেসব প্রত্যাহার না-হলে বাংলার মাটি আরও একবার দুর্বার ছাত্র আন্দোলন দেখবে।’ গত সোমবার বিজেপির ডাকা মিছিল থেকে সিপিএম, এসএফআই ও ডিওয়াইএফের পতাকা পোড়ানোর ঘটনার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন বাম ছাত্র নেতৃত্বরা। এদিন বিভিন্ন থানায় এই বিষয়ে অভিযোগও জানানো হয়।