• তৃণমূল জমানায় বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা খুলে ১০০ কোটি তোলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এজেন্ট
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারদা-রোজভ্যালির পরেও বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার রমরমা অব্যাহত ছিল তৃণমূল জমানায়। পূর্বতন সরকারের আমলে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা খুলে বিপুল পরিমাণ রির্টানের টোপ দিয়ে বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রমেশ সাউ নামে ওই চিটফান্ড কোম্পানির এক এজেন্টকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেসেস (ডিইও)। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ নেই কোম্পানির ডিরেক্টর সহ অন্যদের।

    ডিইও সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের শুরুতেই  দুর্গাপুরে এই কোম্পানির অফিস খোলা হয়। কোম্পানি জানিয়েছিল, দেশে-বিদেশে একাধিক ব্যবসা রয়েছে তাদের। কোম্পানিতে টাকা রাখলে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন মিলবে। যদিও সেবি, রিজার্ভ ব্যাংক সহ বিভিন্ন নিয়ামক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই তারা বাজার থেকে টাকা তুলতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এরজন্য এজেন্ট নিয়োগ করে তারা। বিভিন্ন স্কিমে এজেন্টরা টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করে আমানতকারীদের কাছ থেকে। প্রথমে টাকা ফেরত দিচ্ছিল কোম্পানি। ভালো রির্টানের আশায় অনেকেই আরও বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই আমানতকারীদের মাথায় হাত। টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না আমানতকারীরা। ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর পর ঝাঁপ গোটায় এই কোম্পানি। পঞ্চসায়র এলাকার এক বাসিন্দা এই সংস্থায় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা রেখেছিলেন। প্রতারিত হয়ে অভিযোগ করেন পঞ্চসায়র থানায়। বিভিন্ন জেলার থানায় প্রতারণার অভিযোগ হতে থাকে এই কোম্পানির বিরুদ্ধ। এর তদন্তভার যায় ডিইওর হাতে।

    তারা তদন্তে নেমে দেখে কয়েক হাজার আমানতকারী প্রতারিত হয়েছেন। সারদা-রোজভ্যালির মতোই এখানে নগদ টাকা জমা পড়ত। বস্তা বস্তা টাকা বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই কোম্পানি ১০০ কোটি টাকা তুলেছে বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই কোম্পানির অফিস, ডিরেক্টরদের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন তাঁরা। এরপর সোমবার কোম্পানির এজেন্ট কাম কর্মী রোহিতকে দূর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিইও। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, ডিরেক্টরদের নির্দেশে এই টাকা তোলা হচ্ছিল। মঙ্গলবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী জগজিত সিং বলেন,  তাঁর মক্কেল একজন এজেন্ট মাত্র। এমনকি তিনি বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর কোনো যোগ নেই। সরকারি আইনজীবী বলেন, অভিযুক্তকে জেরা করে টাকা কীভাবে পাচার হয়েছে, কোথায় টাকা জমা পড়ত এবং কোম্পানির ডিরেক্টরদের  তথ্য পেতে হবে। তাই তাকে হেপাজতের প্রয়োজন। সওয়াল শেষে তাকে ডিইও হেপাজতে পাঠায় আদালত।
  • Link to this news (বর্তমান)