• নতুন ফোন চুরি করে দোকানে বিক্রি, দমদম স্টেশনে জিআরপির হাতে ধৃত ১
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সাব ডিলারদের কাছ থেকে দোকানে যাওয়ার  সময় কোম্পানির মোবাইল ফোন হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। হাতানো সেই মোবাইল আবার চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। ভুয়ো নথি তৈরি করে সেগুলি বিক্রি হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মোবাইল ফোন বিক্রির দোকানে। এই উপায়েই হাতানো ১৪টি নতুন মোবাইল উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে এই তথ্য পেল দমদম রেল পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘোলার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দে’কে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহিলাদের মাধ্যমে গোটা নেটওয়ার্কটি চালানো হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে। এই মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত হলে কী হবে, তাই নিয়ে ঘুম ছুটেছে পুলিশের।

    রেল পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন কোম্পানি ডিলারদের কাছে মোবাইল ফোন পাঠায়।  সেখান থেকে সাব ডিলার হয়ে সেগুলি পৌঁছয়  রিটেল শপে। সাব ডিলারদের থেকে দোকানে মাল পৌঁছনোর জন্য ডেলিভারি বয় রয়েছে। অভিযোগ, ডেলিভারি বয়দের একাংশ মাঝপথেই মোবাইল সরিয়ে ফেলছে। এরপর থানায় গিয়ে মোবাইল মিসিং হওয়ার অভিযোগ করছে। হাতানো সেই মোবাইল ঘুরপথে কম দামে কিনে নির্দিষ্ট দরে তা বিক্রি করছে বিভিন্ন দোকানদার। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সরাসরি ডেলিভারি বয়রা এই মোবাইল দোকানে বিক্রি করছে না। হাতানো মোবাইল কেনার জন্য একটি গ্যাং রয়েছে। যার মাথায় রয়েছে মহিলারা। তাদের সঙ্গে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির বিভিন্ন মোবাইল দোকানদারের যোগাযোগ রয়েছে। এই গ্যাং জলের দামে মোবাইল কিনছে। তারপর তার ভুয়ো নথি তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ মোবাইলটি  কোন কোম্পানি থেকে এসেছে, কোন ডিলার এটি নিয়েছেন সহ একাধিক জাল নথি তৈরি করছে এই জালিয়াত চক্র। এরপর সেটি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলার দোকানে। গ্যাংয়ের মাথায় থাকা মহিলারা আবার এই মোবাইল দোকানে ডেলিভারি করতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে লোক নিয়োগ করছে। তাদের মাধ্যমে মোবাইল যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। ভুয়ো নথিকে আসল বলে দেখিয়ে খরিদ্দারের কাছে মোবাইল বিক্রি করছে এই সমস্ত দোকানগুলি। রসিদ  দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। ক্রেতা জানতেই পারছেন না, তিনি চোরাই মোবাইল কিনে বাড়ি ফিরলেন। রেল পুলিশের এক অফিসারের কথায়, বিভিন্ন দোকানে বিনা ডাউন পেমেন্টে শুধু মাসিক ইএমআইতে ফোন বিক্রি হয়। চোরাই এই মোবাইল এই সমস্ত দোকানে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। দমদমে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলি খিদিরপুর থেকে এনে দত্তপুকুরের এক মহিলার কাছে পাঠানো হচ্ছিল। ঘটনাচক্রে ওই মহিলার স্বামীর মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান রয়েছে। তার খোঁজ চলছে। পাশাপাশি এই ধরনের চোরাই মোবাইল ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে শিকড়ে পৌছতে পুলিশকে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই এই কারবার বন্ধে কোমর বেঁধে নেমেছে রেল পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)