ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১০০ শতাংশ মুগ ডাল কেনা, সার বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ই-টোকেন প্রথার ত্রুটি সংশোধনের দাবিতে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে কৃষকদের ‘কৃষক ক্রান্তি পদযাত্রা’ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকে হাজার হাজার কৃষক নর্মদাপুরম থেকে ভোপাল অভিমুখে মিছিল করে ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীতে ঢুকেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছনো আটকাতে বীর সাভারকর সেতুর আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার কৃষকরা হোসাঙ্গাবাদ রোডে রাত কাটিয়েছেন। বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর ভবনের দিকে আবার মিছিল শুরু করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা।
পুলিশ ও ভোপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে কিষাণ ক্রান্তি পদযাত্রায় কৃষকদের ১৯টি কৃষক সংগঠন রয়েছে। সোমবার নর্মদাপুরম থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে ওবায়দুল্লাগঞ্জ, মান্ডিদীপ, ১১ মাইল হয়ে কৃষকরা মঙ্গলবার ভোপালে পৌঁছেছেন। তাঁরা ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে সাত দিনের খাবার ও জল নিয়ে এসেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁর বাসভবনে কৃষকদের পদযাত্রা ও বিক্ষোভ নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন। কৃষিমন্ত্রী আইদাল সিং কানসানা, মুখ্য সচিব অশোক বর্ণওয়াল, জবলপুর বিভাগীয় কমিশনার ধনঞ্জয় সিং, ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সিং এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তার আগে কৃষিমন্ত্রী মুগ ডাল সংগ্রহ-সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কৃষকদের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল এবং সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।
এক নজরে
প্রধান দাবি: ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১০০ শতাংশ মুগ ডাল কেনা, সার বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ই-টোকেন প্রথার ত্রুটি সংশোধন করা।
আন্দোলনের রূপরেখা: সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার (১৯টি কৃষক সংগঠনের জোট) ডাকে নর্মদাপুরম থেকে ভোপাল পর্যন্ত 'কৃষক ক্রান্তি পদযাত্রা' করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: হাজার হাজার কৃষক ব্যারিকেড ভেঙে ভোপালে ঢুকেছেন। মঙ্গলবার রাতে হোসাঙ্গাবাদ রোডে কাটানোর পর, বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের প্রস্তুতি: দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাঁরা ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে ৭ দিনের খাবার ও জল সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: কৃষকদের আটকাতে বীর সাভারকর সেতুর আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং কৃষিমন্ত্রী পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। কৃষিমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রফাসূত্র বের হয়নি।
FAQ
কৃষকরা কেন ভোপালে বিক্ষোভ করছেন?
কৃষকদের মূল দাবি তিনটি— ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১০০ শতাংশ মুগ ডাল কিনতে হবে, সার বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে এবং ই-টোকেন প্রথার যে ত্রুটিগুলি রয়েছে তা অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।
এই পদযাত্রার নাম কী এবং কারা এর ডাক দিয়েছেন?
এই পদযাত্রার নাম ‘কৃষক ক্রান্তি পদযাত্রা’। ১৯টি কৃষক সংগঠনের জোট 'সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা' এই পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। এটি নর্মদাপুরম থেকে শুরু হয়ে ভোপালে এসে পৌঁছেছে।
কৃষকদের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
কৃষকরা দাবি আদায়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করার প্রস্তুতি হিসেবে তাঁরা ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে টানা সাত দিনের খাবার ও জল সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
কৃষকদের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছনো আটকাতে বীর সাভারকর সেতুর আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকার কি কৃষকদের দাবি মেনে নিয়েছে?
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং কৃষিমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ে পদস্থ আধিকারিক ও কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন। কৃষিমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও, খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।