• অসমের বন্যায় অবস্থার আরও অবনতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লক্ষ
    এই সময় | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • বর্ষায় অসমের ফি বছরের সঙ্গী বন্যা। কিন্তু চলতি বছর গত পাঁচ দশকের মধ্যে বন্যার সব থেকে ভয়ঙ্কর রূপের সাক্ষী থাকল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। অসমের বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর ফলে রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (ASDMA)-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৬২২টি গ্রামের ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন প্রবল দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায় ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়।

    সূত্রের খবর, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শিবসাগর (Sivasagar) জেলায়। এই জেলায় মৃত্যুর সংখ্যাও সবথেকে বেশি। বন্যার জল ও প্রবল স্রোতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ওই বাসিন্দারা। বর্তমানে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, চরাইদেও-সহ একাধিক জেলা এখনও বন্যার প্রভাবে বিপর্যস্ত।

    প্রবল বর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে নদী। লাগাতার বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলা এখনও জলমগ্ন। হাজার হাজার পরিবার ঘরছাড়া হয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। বহু বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গবাদি পশুরও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। বন্যায় মৃতদের পরিবারের জন্য এককালীন সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক লক্ষেরও বেশি পরিবারকে অবিলম্বে ১৫,০০০ টাকা করে নগদ সাহায্য করা হবে, যাতে তারা খাদ্য, পোশাক ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন।

    রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১ অগস্ট থেকে অরুণোদয় প্রকল্পেও বিশেষ কিস্তি দেওয়া হবে। চরাইদেও, জোরহাট, গোলাঘাট এবং শিবসাগরের উপভোক্তারা এই মাসে ২,৫০০ টাকা বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

    এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্যও বিশেষ শিক্ষা সহায়তা (Student Grant) দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যেই এই অনুদান দেওয়া হবে।

    বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল (Inter-Ministerial Central Team) অসমের বিভিন্ন দুর্গত এলাকা ইতিমধ্যেই পরিদর্শন শুরু করেছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। কেন্দ্রের তরফে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    রাজ্য প্রশাসন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), সেনা, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় নৌকার মাধ্যমে খাদ্য, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বহু এলাকায় অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    বহু ত্রাণ শিবিরে অতিরিক্ত চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং গবাদি পশুর জন্যও পৃথক চিকিৎসা শিবির খোলা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দিতে Air India Express অসমমুখী কার্গোর পরিবহণ খরচ মকুব করেছে।

    আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলস্তর আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে প্রশাসনও বাড়তি সতর্ক।

    অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

    বর্তমানে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।

    শিবসাগর, গোলাঘাট, যোরহাট এবং চরাইদেও-সহ একাধিক জেলা এখনও বন্যার প্রভাবে বিপর্যস্ত। শিবসাগরেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    অসম সরকার বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ₹৯ লক্ষ এককালীন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।

    এক লক্ষেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ₹১৫,০০০ করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

    চরাইদেও, যোরহাট, গোলাঘাট এবং শিবসাগরের উপভোক্তারা ১ অগস্ট থেকে ₹২,৫০০ বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ফিরতে সহায়তার জন্য বিশেষ Student Grant দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    NDRF, SDRF, সেনা, পুলিশ, রাজ্য প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্ব ভারতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)