• ১৫ বছরে হয়নি সংস্কার, বেহাল পথে ধানের চারা রোপণ করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের
    এই সময় | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: বাম আমলে তৈরি রাস্তা, মাঝে পেরিয়েছে ১৫টা বছর। নতুন রাস্তা তৈরি তো দূরের কথা, সংস্কারই হয়নি তৃণমূল জামানায়। সেই যা মোরাম পড়েছিল বাম জমানায়। তার পর থেকে আর কেউই কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে, রাস্তা সারাইয়ের নামে বোর্ড বসিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল আমলে এই রাস্তার কাজ হয়েছে বলে বোর্ড বসানো হয়। কিন্তু কোনও কাজই হয়নি। অভিযোগ, প্রকল্পের সব টাকাই ঢুকেছে নেতাদের পকেটে। তারই সঙ্গে উধাও হয়েছে রাস্তায় লাগানো বোর্ড।

    এ বার এমনই অভিযোগ তুলে আরামবাগের তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মইগ্রামে বেহাল রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেখালেন এলাকাবাসীরা। মইগ্রামের ঘোষপাড়া এলাকার ওই রাস্তা বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ভোটে প্রতিশ্রুতি দিলেও, কোনও কাজ হয়নি। এলাকার মানুষের অভিযোগ, আগের সরকারের জনপ্রতিনিধিরা একাধিক বার ঢালাই রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার কথা বললেও, কোনও কাজ হয়নি। উল্টে, নতুন রাস্তার নামে কিছু দিনের জন্য বোর্ড লাগিয়ে, সে টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    উল্লেখ্য, আরামবাগের এই মইগ্রামেরই বাসিন্দা আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা এ বারের বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী মিতা বাগ। তিনিও কোনও কাজ করেননি বলে অভিযোগ। এ বার বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, রাজ্যের নতুন সরকার এই রাস্তার দিকে নজর দিক। বর্ষায় কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে। রাস্তায় যেতে যেতে বেশ কয়েকজন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তাতে কারও পা ভাঙে তো কারও হাত। অথচ বার বার আবেদন জানানো হয়েছিল স্থানীয় তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতে। কিন্তু প্রধান কোনও উদ্যোগই নেননি। উল্টে, এক সময়ে কাজ হয়ে যাওয়ার বোর্ড বসানো হয়।

    প্রশ্ন উঠেছে, সেই কাজের লক্ষ লক্ষ টাকা গেল কোথায়? অবিলম্বে এই রাস্তার কাজ করতে হবে। না হলে এই এলাকার সমস্ত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এই দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা ধানের চারা রোপণ করেন রাস্তাতেই। এই গ্রামেরই বাসিন্দা সুনীল বাগ, উত্তম হাজরা, দিবাকর সাঁতরা, ত্রিলোচন মাটি, রেশমা সাঁতরা, শ্যামল ঘোষ–সহ একাধিক জন একসঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন। একসঙ্গে পথে ধানের চারা বপন করেন।

    ত্রিলোচন মাটি বলেন, ‘সেই কবে বাম আমলেই শেষ বারের মতো মোরাম পড়েছিল। তৃণমূল তো প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজ করেনি। অথচ বোর্ড বসিয়ে, কাজ না করিয়েই সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখানেই বাড়ি মিতা বাগের। তিনিও তো পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি কি কিছুই জানতেন না?’ গৃহবধূ রেশমা সাঁতরা বলেন, ‘আমার শাশুড়িকে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কাদায় পিছলে পড়ে গেলেন। পায়ে যন্ত্রণা হচ্ছিল। ডাক্তারখানায় নিয়ে যেতেই হবে। কোনও রকমে কাদা মাড়িয়ে যেতে হলো, বিপদের ঝুঁকি নিয়েই। নতুন বিধায়কের কাছে আমাদের আবেদন, তিনি যদি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি একটু দেখেন, তা হলে গ্রামবাসী উপকৃত হবেন। স্কুল, বাজার, ডাক্তারখানা— সব জায়গায় যেতে পারবেন নির্ভাবনায়।’ আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ অবশ্য বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতেই তৃণমূলের নেতারা এই ভাবেই কত বোর্ডই তুলে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমি দেখছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তাটির কাজ যাতে করানো যায়।’

  • Link to this news (এই সময়)