এই সময়: নিজের জেলায় পোস্টিংয়ে রাশ টানা, একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত অফিসারদের বদলি বাধ্যতামূলক করা-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরে কড়া বদলি নীতি কার্যকর করল রাজ্য সরকার। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা মেনে সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তর এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন সব শাখা ও অধিকর্তাদের তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তার সারমর্ম হলো— কোনও কর্তা, আধিকারিক বা কর্মচারী সাধারণ নিয়মে নিজের জেলা বা হোম ডিস্ট্রিক্টে পোস্টিং পাবেন না। একমাত্র অবসর গ্রহণের ঠিক আগের দু’বছর প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই নিয়মে সামান্য ছাড় দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও দীর্ঘ সময় একই পদে কাজ করার প্রবণতা প্রতিরোধে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, একজন অফিসার বা কর্মী কোনও নির্দিষ্ট পদে একটানা তিন বছর পূর্ণ করলেই তাঁকে বদলির কথা বিবেচনা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কোনও কর্তা ও কর্মী একই পদে চার বছরের বেশি সময় ধরে থাকতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, গত ১৩ জুলাই কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন বদলি নীতি কার্যকর করা হচ্ছে বলে সরকারি মহলের বক্তব্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে রাজস্ব আদায়, কর সংগ্রহ এবং অন্য সংবেদনশীল ফিল্ড পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে। এ ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দু’বছর পূর্ণ হলেই বদলির প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কোনও ভাবেই তিন বছরের বেশি একই দায়িত্বে রাখা যাবে না।
তবে প্রশাসনিক স্বার্থে বা বিশেষ মানবিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এই নিয়ম শিথিল করতে পারবেন বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের সার্কুলারে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা (ডিএইচএস), স্বাস্থ্য–শিক্ষা অধিকর্তা (ডিএমই), আয়ুষ, হোমিয়োপ্যাথি, ড্রাগ কন্ট্রোল-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন সব বিভাগে এই নীতি কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত আধিকারিকদের রদবদল নিশ্চিত হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং স্বজনপোষণ বা অনিয়মের সুযোগও অনেকটাই কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এই নতুন বদলি নীতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু ফিল্ড-লেভেলের কর্মীদের জন্যে প্রণীত সাধারণ নীতিটি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য কী ভাবে হবে? বিশেষ করে জ়োনভিত্তিক বদলির স্পষ্ট মাপকাঠি ছাড়া এই নীতি কার্যকর হলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা।’ নার্সদের সংগঠন নার্সেস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এই নীতির অর্থ হলো, সরকারি কর্মী–আধিকারিকদের কোনও ব্যক্তিগত জীবন নেই! তাঁদের পরিবার–সন্তানকে ভালো রাখার কোনও দায় নেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি চাকরি করেন বলে! শুধু কি তাঁরা সরকারেরই সেবা করে যাবেন!’