সব্যসাচী ঘোষ, মালবাজার
একটা সময় সংগঠনের অফিস কোথায়, তা বেশির ভাগ মানুষের জানা ছিল না। আর এখন সেই অফিসের ভিতরে এতটাই ভিড় যে, বাইরে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকছেন অনেকেই। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলীদের জন্য দরজা বন্ধ বলে জানিয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং সঙ্ঘ অনুমোদিত বিভিন্ন শাখা সংগঠনগুলোতে প্রতিদিন ভিড় বেড়েই চলেছে। সবাই সদস্য হতে চাইছেন। একেবারে গুণিতক হারে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংঘের কার্যকর্তারা।
উত্তরবঙ্গ আরএসএসের শক্ত ঘাঁটি। উত্তরে বিজেপির দারুণ ফলের পিছনে আরএসএসের হাত রয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এতদিন প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে অফিস চালাতেন সংঘের কর্তারা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আর সেগুলি আড়ালে নেই। উত্তরবঙ্গের ছোট বড় নানা শহরে সংঘের যে ছোট ছোট ভবন বা ভাড়া বাড়ি নিয়ে সংঘের অফিস রয়েছে, সেগুলিতে শেষ দু’মাসে সংঘের নিয়ম মেনে প্রতি সপ্তাহের অধিবেশনগুলিতে দ্বিগুণ, চারগুণ করে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। স্থান সংকুলান নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।
সঙ্ঘের এক নেতার কথায়, ‘আমাদের সঙ্ঘে প্রবেশের কোনও দরজা–জানালা নেই। তাই যে কেউ সঙ্গে আসতে পারেন।’ তবে শুধু সঙ্ঘে নয়, সংঘ অনুমোদিত বিভিন্ন শাখা সংগঠনেও ভিড় বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক সংগঠন যার মাত্র কয়েক মাস আগে পর্যন্ত জেলা কমিটিতে কে কে আছেন, সেই নাম জানা যেত না, এখন সেই শিক্ষকদের সংগঠনের ব্লক স্তরের বৈঠকে ভিড় উপচে পড়ছে। নারীদের জন্য পৃথক সংগঠন, কৃষকদের জন্য পৃথক সংগঠন, এমনকী বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য থাকা ‘সক্ষম’ সব শাখা সংগঠনেই সদস্য সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী।
সরাসরি বিজেপিতে প্রবেশ করা কঠিন বলে এভাবে সঙ্ঘের সঙ্গে থেকে ঘুরপথে বিজেপির সংস্রবে থাকা যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের সে আশায় বালি বলে মনে করছেন সঙ্ঘের কর্তারা। জলপাইগুড়ির সংঘের এক প্রখণ্ড কার্যকর্তা বলেন, ‘সঙ্ঘ কাকে দিয়ে কী কাজ করাবে, সেটা বুঝে নেয়। আদর্শ চরিত্র ও নৈতিকতা যাচাইয়ের মাধ্যমে আগামীতে দায়িত্ব দেওয়ার কাজ হবে।’ শুধু সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, সঙ্ঘের নাগপুর থেকে আসা বাংলা ভাষায় অনূদিত মুখপত্র, পত্রিকা এবং বাংলা ভাষায় থাকা সঙ্ঘের বিভিন্ন বইয়ের বিক্রিও বাড়ছে। মালবাজার শহরে রথমেলায় এবার এই প্রথম সঙ্ঘের বই বিপণী খোলা হয়েছিল। সেই বই বিপণীতে ভালো সাড়া মিলছে বলে দাবি কার্যকর্তাদের।