: অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ান গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ১ ব্লকে। ভোররাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরবোঝাই ডাম্পার রাস্তা ছেড়ে সোজা ঢুকে পড়ে রাস্তার ধারে অবস্থিত একটি তাঁতের কারখানায়। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। মুহূর্তের মধ্যেই কারখানার একাংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং একাধিক তাঁত ও দামী সুতোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে গভীর রাতে কারখানায় শ্রমিক না থাকায় বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার ভোর প্রায় সাড়ে ৩টা নাগাদ পূর্বস্থলী ১ ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরতলা এলাকায় কালনা–কাটোয়া STKK রোডের ধারে ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যানগরের দিক থেকে হেমায়েতপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি পাথরবোঝাই ডাম্পার। আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের তাঁতের কারখানায় সজোরে ধাক্কা মেরে ঢুকে পড়ে। কারখানার সঙ্গে যুক্ত নারায়ণ চন্দ্র বসাক জানান, বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ডাম্পারটি তাঁদের কারখানার ভিতরে ঢুকে পড়েছে। ধাক্কায় কারখানার একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। তাঁত, সুতো এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সুতোরই প্রতি কেজির দাম প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে তাঁদের দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান।
তিনি আরও জানান, কারখানায় মোট ১০টি তাঁত রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি তাঁত চালু অবস্থায় ছিল। দুর্ঘটনার পর ডাম্পারের চালক নাকি স্বীকার করেন যে তাঁর চোখে ঘুম লেগে গিয়েছিল, যার জেরেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। ডাম্পারে চালক ও খালাসি দু’জনেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থানায় খবর দেওয়া হলেও সেই সময় পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যদিও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এই তাঁতের কারখানার উপরই তাঁদের জীবিকা নির্ভরশীল। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও মুহূর্তের মধ্যে বহু বছরের পরিশ্রম ও জীবিকার অবলম্বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটাই আবেদন, দ্রুত তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।