• নথিতে কারচুপি, রাজস্বে কোটির চুরি! পেট্রাপোলে সুপারি পাচারের মেগা সিন্ডিকেট, কলকাতা থেকে গ্রেফতার
    News18 বাংলা | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • : এভাবেই চলছিল পান খাওয়ার সুপারি নিয়েই কালোবাজারি! ভারত বাংলাদেশের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পেট্রাপোল দিয়ে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেআইনিভাবে ভারতে আনার অভিযোগে ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। সেই মামলায় কলকাতা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে ডিআরআই তার হেফাজতের আবেদন জানায়। ঘটনাকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য মহলে।

    ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সুখেন ঘোষ। তাঁর বাড়ি কলকাতায়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ সুপারি ভারতে আনার চক্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই বেআইনি কারবারের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুল্ক আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত পাচারচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো নথি ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সীমান্ত দিয়ে সুপারি আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছিল। সেই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ডিআরআই। এই মামলায় এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিআরআই সূত্রের দাবি, সুখেন ঘোষকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর যোগ থাকতে পারে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এদিকে, একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিকাশ হাতারিকেও বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই থাকতে হবে। ডিআরআই জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের মূল হোতা, আর্থিক লেনদেন এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলেও তদন্তকারী সংস্থার ইঙ্গিত। সীমান্ত বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং রাজস্ব ফাঁকি রুখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিআরআই।
  • Link to this news (News18 বাংলা)