: যারা অবৈধ জুয়া ও সাট্টা চালায় তাদের মুখে তুলে দেওয়া হল রসগোল্লা! শুনতে একটু অবাক লাগলেও এমনি এক প্রতিবেদন তুলে ধরব আমরা। এলাকায় ক্রমশ বাড়তে থাকা বেআইনি সাট্টা ও জুয়ার মতো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবার অভিনব উপায়ে পথে নামল ‘বঙ্গীয় হিন্দু সমাজ’। গয়েশপুর মণ্ডলের পক্ষ থেকে গয়েশপুর বেদী ভবন ও গোকুলপুর অঞ্চলে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হয়। এদিনের এই অভিযানে বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের কর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কোনও সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা না তৈরি করে হাত জোড় করে ও মিষ্টি মুখ করিয়ে অসামাজিক কারবার বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের গয়েশপুর মণ্ডলের প্রতিনিধি ভোলানাথ দাস জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বেআইনি সাট্টা ও জুয়ার ফলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি একটি মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, গতকালই এক অসহায় নারী তাঁর দুটি ছোট সন্তানকে নিয়ে তাঁদের কার্যালয়ে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর স্বামী নিয়মিত জুয়া ও সাট্টা খেলে সংসারের সমস্ত অর্থ উড়িয়ে দেওয়ায় পরিবারটি অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই সংগঠনের সদস্যরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে একজোট হয়ে পথে নামার সিদ্ধান্ত নেন। ভোলানাথবাবু জানান, যাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বুঝিয়ে সৎপথে উপার্জনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক হতে হবে, তা না হলে সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রথম দফায় মিষ্টি খাইয়ে ও হাত জোড় করে অনুরোধ জানিয়ে এই কাজ বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। তবে এতেও যদি অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না হয়, তবে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানাবেন। সমাজকে জুয়ার মতো ব্যাধি থেকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান আন্দোলনকারীরা।