• কাঁধে পুরো জেলার সুরক্ষার গুরুদায়িত্ব, সেই এসপি খুদেদের সঙ্গে বসে মেটালেন 'ছোটবেলার শখ'
    News18 বাংলা | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • দাবার বোর্ড দেখে স্মৃতি মেদুরতায় ভেসে গেলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার। কাঁধে রয়েছে গুরুদায়িত্ব! পুরো জেলার আইন শৃঙ্খলা নিজের কাঁধে করে নিয়ে চলেছেন। তাই নিজের অনেককিছু শখকে বিসর্জন দিতে হয়েছে না চাইতেও। বিশেষ করে ছোটবেলার প্রিয় খেলাধুলা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার অন্যতম প্রিয় খেলা ছিল দাবা। সাদা কালোর ৬৪ খোপ ও রাজা উজিরসহ পেয়াদা। আর বুদ্ধিমত্তার একচালে বিপক্ষকে কিস্তিমাত করে দেওয়াটা দাবা খেলার দস্তুর। ছাত্রজীবনের সেই ফেলা আসা দাবাড়ু স্বত্বা আজও মনের অবচেতন স্তরে বাস করছে। তাই চোখের সামনে দাবা খেলতে দেখে আবারো নস্টালজিয়ায় ফিরে গেলেন জেলা পুলিশ সুপার।

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি বিশেষ দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। মূলত সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী এবং ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালামের জন্মজয়ন্তী পালনে এই বিশেষ দাবা প্রতিযোগিতার আসর বসে জেলা পুলিশ লাইনে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৭০ জন খুদে দাবাড়ু অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। আর খুদে দাবাড়ুদের দেখে জেলা পুলিশ সুপারের চোখের সামনে ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে উঠল নিজের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার দিনগুলি। জেলার আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়ে আইন রক্ষায় ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের প্যাঁচে কিস্তিমাত করছেন তিনি। কিন্তু সাদাকালো গুটি আর দাবার চাল দেখে ভেসে গেলেন অতীতে।

    প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দাবাড়ুদের শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার। পরে তিনি নিজেও কয়েকজন খুদে প্রতিযোগীর সঙ্গে দাবার বোর্ডে বসে চাল দেন। ছোট ছোট প্রতিযোগীদের সঙ্গে খেলার সময় যেন ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে। দাবার গুটি হাতে নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিকে আবারও একবার অনুভব করলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, “ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে যদি কোনও ভয় বা দূরত্ব থেকে থাকে, তা দূর করা।”

    পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা খেলা মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করাই জেলা পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এই দাবা প্রতিযোগিতায় জেলা পুলিশ সুপার ছাড়াও, অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক এবং প্রতিযোগীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে ঘিরে উপস্থিত সকলের মধ্যেই ছিল উৎসাহ ও ইতিবাচক সাড়া।
  • Link to this news (News18 বাংলা)