অশোকনগর-হাবরাবাসীর জন্য সুখবর। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে অবশেষে চালু হতে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার মুক্তিধাম শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে গিয়েছেন হাবরার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল-সহ অন্য কর্তা, ব্যক্তিরা। সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অগস্ট মাসেই চালু হতে পারে নতুন এই ইলেকট্রিক চুল্লি। এর পাশাপাশি, শ্মশান চত্বরে একাধিক উন্নয়নমূল কাজের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা স্টেশন রোডের কাছে অবস্থিত এই মুক্তিধাম শ্মশান। হাবরা এবং অশোকনগরের বহু মানুষ এই শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসেন। এতদিন পর্যন্ত এই শ্মশানে কাঠের চুল্লিতেই মৃতদেহ দাহ করা হতো। দীর্ঘদিন ধরেই অশোকনগর, হাবরা দুই এলাকার মানুষেরই দাবি ছিল একটি ইলেকট্রিক চুল্লির। কারণ তা ছিল না। অনেকটাই দূরে মৃতদেহ নিয়ে যেতে হতো পরিবারকে। অবশেষে, সেই দাবিই পূরণ হতে চলেছে। এই শ্মশান অশোকনগর, হাবরার মাঝে হওয়ার ( হাবরা স্টেশন রোড বাণীপুর) জন্য দুই এলাকার মানুষই উপকৃত হবেন।
শুধুই চুল্লি নয়। সূত্রের খবর, মুক্তিধাম শ্মশানের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেরর ভাবনাও রয়েছে প্রশাসনের। যেমন, মৃতের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করার জন্য শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, শ্মশান চত্বরটি আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
হাবরার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল জানান, বহু বছর ধরে এই প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের একাংশের মতে, ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হলে দাহকাজ আরও দ্রুত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হবে। পাশাপাশি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে পরিষেবাও উন্নত হবে বলে মনে করেন তাঁরা।
তবে, নতুন ইলেকট্রিক চুল্লি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী নিয়মাবলি মেনে চলা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। মৃতদেহ দাহ করতে কত খরচ হবে তাও এখনও ধার্য করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। উদ্বোধনের পরে সমস্ত নিয়ম জানা যাবে বলেই অনুমান।
FAQ
মুক্তিধাম শ্মশানটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া স্টেশন রোডের কাছে বাণীপুরে মুক্তিধাম শ্মশানটি অবস্থিত।
মুক্তিধাম শ্মশানে নতুন কোন পরিষেবা চালু হতে চলেছে?
দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারের জন্য একটি নতুন ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হতে চলেছে।
নতুন এই ইলেকট্রিক চুল্লি কবে চালু হতে পারে?
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অগস্ট মাসেই এই নতুন ইলেকট্রিক চুল্লিটি চালু হতে পারে।
ইলেকট্রিক চুল্লি ছাড়া শ্মশানে আর কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে?
চুল্লির পাশাপাশি শ্মশানের সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নতি করা হচ্ছে। মৃতের পরিবারের সদস্যদের বসার ও অপেক্ষা করার জন্য শেড নির্মাণ করা হচ্ছে এবং শ্মশান চত্বরটিকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই চুল্লিতে মৃতদেহ দাহ করতে কত খরচ পড়বে?
নতুন ইলেকট্রিক চুল্লি ব্যবহারের নিয়মাবলি বা মৃতদেহ দাহ করার খরচ কত হবে, তা এখনও ধার্য করা হয়নি।