বীরভূমে টাকার খনি! উদ্ধার হলো সোনার এক গুচ্ছ বারও। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হলো বুধবার। এই অভিযানের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সফল অভিযানের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশের অভিযানে বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের আস্তানায় বড়সড় অভিযান চালায়। এখনও অবধি ৫.৫ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে।’
এই অভিযানের জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি, বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার এবং অভিযানে অংশগ্রহণকারী বীরভূম জেলা পুলিশের সমস্ত অফিসার ও কর্মীদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে করিয়ে দেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলবে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী।
শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, যারা এতদিন সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করেছে, অবৈধ ভাবে সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছে এবং আগের শাসকদলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থেকেছে, কোনও ভাবেই তাদের রেহাই নেই।
বীরভূমের মহম্মদবাজারের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বোনের স্বামী মিনার মণ্ডল। মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর বাড়ি। মঙ্গলবার গভীর রাতে মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বুধবার সকালে ঢোকে টাকা গোনার মেশিন, একাধিক ট্রাঙ্ক। এর পরেই জানা যায়, কোটি কোটি নগদ টাকা মিলেছে মিনারের বাড়ি থেকে।
কয়েক বছর আগে সরকারি বাসের চালক ছিলেন মিনার মণ্ডল। পরে সে সব ছেড়ে পাথরখাদানের ব্যবসায় নামে। টুলুর ব্যবসাও দেখতেন তিনি। যে টুলুর নাম উঠে আসে কয়লা ও গোরু পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীন। অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তারক্ষী সায়গল হোসেনকে জেরা করে এই নাম জানতে পেরেছিল ইডি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন টুলু। আপাতত টুলু কোথায়, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউই। তবে টুলুর থেকে মিনারও কোনও অংশে কম নন বলেই স্থানীয় সূত্রে খবর।
টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন বোলপুরের অন্যতম পাথর ব্যবসায়ী। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরেও রয়েছে বহুদিন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। মিলেছে বহু হিসাব-বহির্ভূত নথি। সিউড়ির সুভাষপল্লিতে বাড়ি তাঁর। এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল টুলু মণ্ডলের। আর তার ফলেই টুলু মণ্ডলের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘এই ধরনের লোকেরা বেহিসাবি কালো টাকা কামিয়ে রেখেছে। টাকা গুনতে মেশিন লাগছে, ট্রাঙ্ক লাগছে টাকা বাজেয়াপ্ত করতে।’