আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবারের পর বুধবার। বীরভূমে বালি মাফিয়ার ডেরায় হানা দিয়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অভিযানের সাফল্যে পুলিশের প্রশংসা পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বুধবার পোষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বীরভূমে অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে কীভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্ভুল সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ অবৈধ বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবুদ্দিনের ডেরায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। টাকার গোনার কাজ এখনও চলছে। পাশাপাশি ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই সাফল্যের জন্য রাজ্যের ডিজিপি, বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং অভিযানে অংশ নেওয়া বীরভূম জেলা পুলিশের সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “দ্রুত, পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে পুলিশ।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসম্পদ লুট করে এবং তৎকালীন শাসকদলের মদতে অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তোলা কোনও ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সম্পদ জনগণেরই, তা লুট করলে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতার মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, দুর্নীতি ও মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার ভোরে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানা এলাকায় জেলার পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মনির মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় বিশাল পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়। পরে টাকা গোনার জন্য পাঁচটি মেশিন, দু’টি প্রিন্টার এবং বড় আকারের দু’টি ট্রাঙ্ক বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অতীতে বীরভূমে বেআইনি পাথর ও বালি ব্যবসা নিয়ে টুলু মণ্ডলের নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, মনির কয়েক বছর আগেও সরকারি বাসচালক ছিলেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। অভিযোগ, টুলু মণ্ডলের পাথর-সংক্রান্ত ব্যবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি হয়। জীবনযাত্রার এই পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।