বেড়ে যাওয়ার পরও আচমকাই কমল পাটের দাম, মাথায় হাত চাষিদের; কারণ খুঁজল bangla.aajtak.in
আজ তক | ২৯ জুলাই ২০২৬
চলতি মাসের শুরুতেই জানা গিয়েছিল পাটের দাম চড়ছে। যার জেরে হাসি ফুটেছিল বাংলার পাট চাষিদের মুখে। কিন্তু ঠিক এক মাসের মধ্যে আচমকা পাটের দামে পতন। ফলে চিন্তায় পড়েছে নদিয়া থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের পাট চাষিরা। মাসের শুরুতে তাঁদের মুখে যে হাসি ফুটেছিল, তা মাসের শেষে এসে বদলে গিয়েছে দুশ্চিন্তায়।
পাট চাষিদের দাবি, গত সপ্তাহ থেকেই আচমকা নীচের দিকে নামছে পাটের দাম। পাশাপাশি চড়ছে খেতমজুরের মজুরি। ফলে টাকার হিসেব করতে বসে মাথায় হাত পড়ছে পাট চাষিদের। মুর্শিদাবাদের পাট চাষিদের একাংশ দাবি করেছেন, গত ১০ দিনে পাটের দাম কুইন্ট্যাল প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে গিয়েছে।
নদিয়ার দেবগ্রামের পাট চাষি জিয়ারুল শেখ bangla.aajtak.in -কে জানান, "মাসের শুরুর দিকে পাটের কুইন্টাল প্রতি দাম ছিল ১৭-১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এখন সেই দাম গত সপ্তাহ থেকেই ১২-১৩ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এখন সেই দাম ঘোরাফেরা করছে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে ক্ষতি হচ্ছে পাট চাষিদের।"
তিনি দাবি করেন, "যখন পাটের দাম ১৬ হাজার বা তারও বেশি ছিল। তখন চাষিরা পাট বিক্রি করে লাভ করেছে। কিন্তু এখন ১০ হাজার টাকার আশেপাশে দাম নেমে আসায় পুরোটাই লস। দাম ১২-১৪ হাজার টাকার আশেপাশে থাকলে কিছুটা লাভ থাকে।"
নদীয়ার দেবগ্রামের পাটচাষিদের দাবি, 'নরম মাল' পাটকলে যাওয়ায় তার দাম দিচ্ছে না পাটকলগুলি। বস্তুত এই 'নরম' পাট বলতে বোঝানো হয়, সেই সব পাট যেগুলিকে ভালো করে না শুকিয়েই জলসমেত বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ওজন বাড়লেও, দোকানিরা এই পাট কিনতে চান না। ফলে দাম পাওয়া যায় কম।
উল্টোদিকে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়েছে মজুরের খরচ। মুর্শিদাবাদের চাষিদের বক্তব্য, বর্তমানে জল থেকে পাট তোলা ও ছাড়ানোর জন্য যে 'মুনিশ' অর্থাৎ মজুরদের কাজে লাগানো হচ্ছে, তাঁদের দিনপ্রতি খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গিয়েছে। আগে যখন দিনে ৫০০ টাকা মজুরি দিতে হত, এখন সেই কাজের জন্য দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। ফলে এই বাড়তি টাকার বোঝা চাপছে কৃষকদের উপরেই। কিন্তু বাজারে আবার মিলছে না দাম। ফলে সব মিলিয়ে পাটের দাম কমায় আতান্তরের পড়েছেন বাংলার পাট চাষিরা। অবিলম্বে এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছেন কৃষকেরা।