• আয়ুষ্মান ভারতের কভারেজ পাননি? নাম তুলুন ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’য়, কীভাবে পাবেন কার্ড?
    আজ তক | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • আগামী ১৬ অগাস্ট রাজ্যে পালিত হবে আয়ুষ্মান দিবস। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে জানিয়েছেন, 'আয়ুষ্মান দিবসে আয়ুষ্মান কার্ড বিলি করা হবে। সত্তোরোর্ধ ৪০ লক্ষ সিনিয়র সিটিজেন এই কার্ড পাবেন।' যারা আয়ুষ্মান কার্ডের  আওতায় আসছে না, তাদের জন্যও সুখবর দিয়েছেন শুভেন্দু। জানিয়ে দিয়েছেন, এমন ব্যক্তিরা রাজ্যের সরকারের নিজস্ব স্কিমের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুযোগ পাবেন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যায় সেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকার কভারেজ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা'র ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

    ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা' পেতে  কিছু শর্ত মানতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কারা এই বিমার সুবিধা পাবেন এবং কারা পাবেন না, সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের পূর্বপ্রচলিত 'স্বাস্থ্যসাথী' প্রকল্পের আওতায় থাকলেও, কেন্দ্র সরকারের 'আয়ুষ্মান ভারত' যোজনার সুফল যারা পান না, রাজ্যের সেই সমস্ত বাসিন্দাদের জন্য এই নতুন প্রকল্পটি কার্যকর হতে চলেছে। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি পরিবার প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (নগদহীন) চিকিৎসা পরিষেবা লাভ করতে পারবে।

    গত ২২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রকল্পে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরে ২৫ জুলাই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এই নতুন প্রকল্পে রাজ্যবাসীকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে। এ ক্ষেত্রেও তাই সকলেই এই বিমার সুবিধা নিতে পারবেন না। কারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

    কারা পাবেন না সুবিধা?
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই স্বাস্থ্যবিমার আওতা থেকে বাদ পড়বেন বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ। পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হলে এই বিমা মিলবে না। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য স্কিম ২০০৮-এর আওতাভুক্ত চাকরিরত বা অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীরা এই বfমা যোজনায় নাম জুড়তে পারবেন না। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য স্কিম ১৯৫৪-এর আওতায় থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরাও পাবেন না। যাঁরা ইতিমধ্যেই গ্রুপ মেডিক্যাল ইনস্যুয়েন্সের আওতাধীন কিংবা সরকারি নিয়মে মেডিক্যাল অ্যালাওয়েন্স পান, তাঁরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। পরিবারের কোনও সদস্যের বয়স ৭০ বছরের বেশি হলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, কারণ ৭০ ঊর্ধ্ব প্রবীণরা সকলেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এসআইআরে (SIR) যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরাও এই স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা
    প্রতিটি পরিবার পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার অধিকারী হবেন এই যোজনার অন্তর্ভূক্ত হলে। তবে ৮ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের পরিবার হলে, তাঁরা বাদ যাবেন। সরকারি অন্য কোনও স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, তিনি এই যোজনার সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আলাদা আলাদা কার্ড হবে। এটি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস প্রকল্প। সমস্ত প্রি এক্সিস্টিং রোগ কভার থাকবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত সব হাসপাতালেই এই যোজনার সুবিধা মিলবে।

    কোন কোন হাসপাতালে মিলবে সুবিধা?
    স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোন কোন রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, কোন কোন হাসপাতালে এই সুবিধা মিলবে এবং চিকিৎসার খরচ কীভাবে নির্ধারিত হবে, তার সমস্তটাই 'আয়ুষ্মান ভারত' যোজনার রূপরেখা ও নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকাভুক্ত সমস্ত রেজিস্ট্রেড হাসপাতালেই ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনা’র অধীনে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে জানিয়েছেন, 'গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যায় সেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। আয়ুষ্মান যোজনার পোর্টালে নাম তোলার কাজ চলছে। স্বাস্থ্যসাথীর ডেটাকেই একত্র করার কাজ চলছে। যতক্ষণ কাজ চলছে ততক্ষণ স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে না। আয়ুষ্মান কার্ড হয়ে গেলে তখন স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে। কারও অসুবিধা হবে না।'

    জানা যাচ্ছে, এই স্বাস্থ্যবিমাটি মূলত পরিবারভিত্তিক হলেও পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নামে পৃথক পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে। এই বিমা কার্ড পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কোনও টাকা দিতে হবে না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কার্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া, আবেদনকারী ব্যক্তি আগে থেকেই কোনো জটিল বা পুরনো রোগে আক্রান্ত থাকলেও তিনি এই প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসার সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

    বিনামূল্যে ডিজিটাল কার্ড
    রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও স্টেট হেলথ এজেন্সি এই কার্ড বিনামূল্যে প্রদান করবে। যার জন্য আধারভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক। প্রতিটি সদস্যের আলাদা বিনামূল্যে ডিজিটাল কার্ড ইস্যু করা হবে। স্বাস্থ্য দফরের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্যাম্প বা পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। চিকিৎসার সময় নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য আধার কার্ড এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক। 
  • Link to this news (আজ তক)