• এবার কৃষকদের অস্ত্র করে বিদ্রোহের ছক! রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে সাক্ষাৎ ‘ককরোচ’ নেতার
    প্রতিদিন | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • সোনম ওয়াংচুককে হাতিয়ার করে প্রথম দফায় সফল আন্দোলনের পর এবার দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি ‘আরশোলা’দের! কৃষকদের ক্ষোভকে অস্ত্র করে দেশে ফের অরাজকতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার কৃষকনেতা রাকেশ টিকাইতের (Rakesh Tikait) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka)। গোপন বৈঠক শেষে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে আশুতোষ বলেন, ”নরেন্দ্র মোদির সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলব আমরা।” সিজেপির এই কর্মসূচিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কী ছদ্মবেশে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পথ সাজাচ্ছে আরশোলারা?

    প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ বলে দাবি করেছিল সিজেপি। তবে ছাত্রদের সেই সমাবেশকে রাজনৈতিক খাতে ব্যবহারের ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। শাসকদলের সেই অভিযোগকে কার্যত মান্যতা দিয়ে মঙ্গলবার কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে সাক্ষাত করেন আশুতোষ ও সিজেপির অন্যান্য নেতারা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের বহু সদস্য। বৈঠক শেষে আশুতোষ বলেন, “মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর জোট গড়ার চেষ্টা করছি আমরা। আশা করব আমাদের দেশের কৃষক এবং যুবসমাজ মোদি সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে।”

    শুধু তাই নয়, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে সিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রের তরফে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একাধিক রাজ্যে পড়ুয়াদের উপর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের হচ্ছে তা প্রত্যাহারের দাবিতে টিকাইতের সমর্থন চেয়েছে সিজেপি। কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকার কোনও পদক্ষেপ না করলে কৃষক সংগঠন ও যুব সম্প্রদায় যৌথভাবে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অপরাধের ইতিহাস নেই, এমন নাবালক বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেপ্তার করে রাখা যাবে না। তবে অপরাধের ইতিহাস থাকলে সেই সব বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতীতের মামলা চালিয়ে যাওয়া যাবে। এই পর্যবেক্ষণেই আপত্তি তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে তাঁরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কিন্তু তা বলে নিজেদের দাবি থেকে সরছেন না। তাঁদের দাবি, আন্দোলন প্রত্যাহারের অন্যতম শর্ত ছিল, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিট-কাণ্ডে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার। যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদেরও মুক্তির দাবি। কখনওই বলা হয়নি কেবল নাবালক বা অপরাধের ইতিহাস না থাকাদের ছাড়া হবে। সৌরভ দাস বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট এখন বলছে যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না। সরকার আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটার সঙ্গে এই পর্যবেক্ষণের কোনও মিল নেই।” এই পরিস্থিতির মাঝেই কৃষকদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা সিজেপির।
  • Link to this news (প্রতিদিন)