• মৃত্যুর দু’বছর পর ‘কলঙ্কমুক্তি’, কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে মনমোহন সিংকে রেহাই দিল সুপ্রিম কোর্ট
    প্রতিদিন | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ‘সমকালীন সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদের থেকে ইতিহাস আমার প্রতি অনেক সহৃদয় হবে।’ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন ডঃ মনমোহন সিং। যত দিন যাচ্ছে আর পাঁচটা ভবিষ্যদ্বাণীর মতো দূরদর্শী মনমোহন সিংয়ের (Manmohan Singh) সেই ভবিষ্যদ্বাণীও মিলে যাচ্ছে। কমনওয়েলথ গেমস, টু’জি কেলেঙ্কারির মতো আরও এক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে এবার ক্লিনচিট পেয়ে গেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ দিকে এসে কোলব্লক কেলেঙ্কারি বা কোলগেট কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হন ডঃ সিং। সেসময় ওড়িশার তালাবিরা-তে অবৈধভাবে কোলব্লক বণ্টনের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বেশ কিছু কোলব্লক বণ্টন বাতিল করা হয়। মনমোহন সিংয়ের সরকারের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে হল্লা শুরু করে বিরোধীরা। তৎকালীন কয়লামন্ত্রী, সরকারের একাধিক আমলা অভিযুক্ত হন। এমনকী অভিযোগের তির চলে যায় সোজা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দিকে।
    সেই কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে মনমোহন সিংকে রেহাই দিল সুপ্রিম কোর্ট। জীবিত থাকাকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর গায়ে দুর্নীতির একমাত্র দাগ ছিল এই কয়লা কেলেঙ্কারি। এর বাইরে আর কোনও দুর্নীতিতে সরাসরি অভিযুক্ত ছিলেন না মনমোহন। একমাত্র কোলগেট কেলেঙ্কারিতেই তাঁকে অভিযুক্ত হিসাবে তলব করেছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু পরে সিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে জানায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানোর মতো উপযুক্ত প্রমাণ মিলছে না। শেষমেশ ক্লোজার রিপোর্টে মনমোহনকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    সেই ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ না করার মতো কোনও কারণ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানাল, ‘সিবিআইয়ের নিম্ন কোনও আদালতেই এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। মনমোহন সিং ২০২৪ সালেই প্রয়াত হয়েছেন। ফলে মামলাটি এমনিও নিষ্ফলা। তাছাড়া মামলায় সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট খারিজ করার মতো কোনও পোক্ত প্রমাণও নেই।” যার অর্থ, মৃত্যুর দু’বছর পর কয়লার দাগ থেকে মুক্ত হলেন মনমোহন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)