নিজের মন্ত্রক থেকেই কোটি টাকার ভরতুকি! এবার অর্থ ফেরালেন কেন্দ্রের সেই মন্ত্রী
প্রতিদিন | ২৯ জুলাই ২০২৬
ছাত্র আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার সমালোচনার মুখে পিছু হটলেন আরও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নিজের দপ্তর থেকে নেওয়া কোটি টাকার ভরতুকি সরকারকে ফেরালেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী (Union Minister Bhagirath Choudhary)। কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদে এই তথ্য দিয়েছে কেন্দ্র।
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী জাতীয় উদ্যানপালন বোর্ডের অধীন একটি প্রকল্পে ৯৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা ভরতুকি নিয়েছিলেন। ‘মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হর্টিকালচার’ প্রকল্পে শসা চাষের জন্য ৯৯.০৩ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক সাহায্য পান ভগীরথ চৌধুরী। সাধারণত এই প্রকল্পের আওতায় শসা, ক্যাপসিকাম বা টমেটো চাষের জন্য মোট খরচের ৫০ শতাংশ বা পরিবার পিছু সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয় কেন্দ্র। মজার কথা হল, এই ভরতুকি দেওয়ার ব্যাপারটা যে বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে, পদাধিকার বলে সেই ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের সভাপতি মন্ত্রীমশাই নিজেই। ভগীরথ চৌধুরী নিজে মন্ত্রী থাকাকালীনই ২০২৫ সালে ওই বিরাট অঙ্কের ভরতুকি পান।
খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা শুরু করে বিরোধীরা। মন্ত্রীর নিন্দা হয় সোশাল মিডিয়াতেও। তারপরই সম্ভবত তিনি ভরতুকির ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন। সম্প্রতি কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, কোন মাপকাঠির ভিত্তিতে জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের প্রকল্পগুলির আওতায় ভর্তুকিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বার্থের সংঘাতের পরিস্থিতি এলে সেটা এড়ানোর উপায় আছে কী? কোনও মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন কিনা সেটাও জানতে চান অভিষেক।
সেই প্রশ্নের জবাবে আরেক কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর জানান, ভগীরথ ওই ভরতুকির টাকা ফেরত দিয়েছেন। তিনি ছাড়াও রাজস্থানের সিরোহির বিজেপি সাংসদ লুম্বারামও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। কেন্দ্রের দাবি, সরকারি পদে থাকা বা কোনও জনপ্রতিনিধি চাইলেও এই ভরতুকি পেতেই পারেন। তাতে সমস্যার কিছু নেই। প্রত্যেক আবেদনকারীকে সমান চোখে দেখা হয়। শুধুমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি এবং শর্ত মেনে চললেই আবেদনগুলি বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ ওই ভরতুকি নিয়ে ভগীরথ যে কোনও অন্যায় করেননি, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার।