• বদলের বাংলায় বীরভূম জেলা পরিষদে শুরু অডিট! কাজল বললেন, ‘দুর্নীতির প্রমাণ হলে ইস্তফা দেব’
    প্রতিদিন | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • বীরভূমে জেলা পরিষদে (Birbhum Zilla Parishad) চলমান অডিটকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের অডিটে যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও বিধায়ক-দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেবেন। বিধায়কের কথায়, “অডিট চলছে। আমি চাই, আমার অবর্তমানেই জেলা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অডিট হোক। আমি কোনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সভাধিপতি ও বিধায়ক দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেব।”

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভার মধ্যে ছয়টিতে জয় পায় বিজেপি এবং পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাঁসন বিধানসভা থেকে জয়ী হয়েছেন ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। পাশাপাশি নানুর বিধানসভায় দলের প্রার্থী বিধান চন্দ্র মাঝির জয়ের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে কাজল শেখ বলেন, “১৯৯৩ সাল থেকে রাজনীতি করছি। বাম আমলে নানুর, লাভপুর, আউসগ্রাম ও কেতুগ্রাম থানায় আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা হয়েছিল। তখন থেকেই বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। তবে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন। কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। সেই রায়কে আমি সম্মান জানাই।” জেলা পরিষদে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের অডিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অডিটে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। তারপরই আমি জেলা পরিষদে যাব। তার আগে নয়। যদি আমার নামে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এক মুহূর্তও পদে থাকব না।”

    একইসঙ্গে বালি, পাথর, কয়লা বা গোরু পাচারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেন কাজল শেখ। তিনি বলেন, “জেলার কোনও বালি মাফিয়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ডেউচা-পাঁচামির পাথর খাদানেও আমি কোনও দিন পা দিই নি।”দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুদিন কোনও সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক পদ না পেলেও দলের প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই বলেও জানান কাজল। তবে আক্ষেপের সুরে বলেন, “রাজনীতিতে কখনও কখনও দু’পা পিছিয়েও যেতে হয়। মানুষের সঙ্গে কিছুদিনের জন্য ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই দূরত্ব দূর করার চেষ্টা করব। জেলা পরিষদেও যাব, হাঁসন বিধানসভাতেও মানুষকে পরিষেবা দেবো।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)