কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে ইসকন। ১ অগস্ট থেকে পড়ুয়াদের পাতে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করবে তারা। এই নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছিল, নিরামিষ খাওয়ালে খুদেদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হবে কী করে? তর্ক-বিতর্কের মাঝেই পড়ুয়াদের পাতে আলাদা করে ডিম দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি বলেন, ‘ইসকন খাবার দিলেও মিড ডে ডিম দেবে রাজ্য সরকার।’
এ দিন বিকেলে নবান্ন থেকে সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত ৮০,৩৭৫টি স্কুলকে কম্পোজিট গ্রান্ট তুলে দেন শুভেন্দু। নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা। তার পরে নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘১ অগস্ট থেকে ইসকন মিড ডে মিল দেবে। তবে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে সেলফ হেলফ গ্রুপের মাধ্যমে আমরা আলাদা করে ডিম দেব।’
২০২৬-২৭-এর বাজেটে মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে শুধু মাত্র কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলির জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন অনেকেই। তাঁদের দাবি ছিল, ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার মানে পড়ুয়াদের ধীরে ধীরে নিরামিষ খাবারের দিকে ঠেলে দেওয়া।
মিড ডে মিলের মেনু থেকে ডিম চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে বলেও সন্দেহ করেছিলেন অনেকে। চলতি মাসে এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছিল। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের হলফনামাও চেয়ে পাঠিয়েছে আদালত। এই সবের মধ্যেই সরকারি স্তরে আলোচনার পরে পড়ুয়াদের পাতে আলাদা করে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
একই সঙ্গে রাজ্য জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে কেন্দ্রীয় সমস্ত গ্র্যান্ট পাব। সুযোগ সুবিধা মিলবে।’ জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনেই স্কুল পরিচালন কমিটি তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপরেও জোর দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিকে এআই, মেসিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স পড়ানো হবে।’ পিএমশ্রী স্কুলের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১ অগস্ট থেকে কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে ইস্কন নিরামিষ মিড-ডে মিল সরবরাহ করবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার আলাদা করে ডিম দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Group) মাধ্যমে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে।
নিরামিষ খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি ছিল, ইস্কনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব গেলে ধীরে ধীরে ডিম-সহ আমিষ খাবার বাদ পড়তে পারে এবং পড়ুয়াদের নিরামিষ খাবারের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
হ্যাঁ। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় অনুদান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
জাতীয় শিক্ষা নীতির নির্দেশিকা মেনে স্কুল পরিচালন কমিটি (School Management Committee) গঠন করা হবে।
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং এবং ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয় পড়ানো হবে।
রাজ্যে পিএমশ্রী (PM SHRI) স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মিড-ডে মিলের নতুন ব্যবস্থা এবং ইস্কনের মাধ্যমে খাবার বিতরণ ১ অগস্ট থেকে শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।