• মিটিং-মিছিল নিয়ে ৩ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করার নিয়মবিধি বা গাইডলাইন তৈরি করতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যের মুখ্যসচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরি করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারপতির নির্দেশ, ২৪ জুলাইয়ের সাংবাদিক ও পুলিশের উপর দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা-ও তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।

    ২৪ জুলাইয়ের হামলা নিয়ে 'এই সময়' সংবাদ মাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক শিলাদিত্য কর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। মামলার আবেদনে কলকাতার ধর্মতলায় গত ২৪ জুলাইয়ের প্রতিবাদ মিছিলে সাংবাদিকদের উপর দুষ্কৃতী হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়।

    শিলাদিত্যর আইনজীবী সঞ্জয় বসু জানান, এ দিন মামলার শুনানিতে তাঁর মক্কেলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী জয়দীপ কর। ওই আইনজীবী আদালতে জানান, নিট-এর প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর ডাকে ২৪ জুলাই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলে সমাজবিরোধীরা অনুপ্রবেশ করে এবং বিনা প্ররোচনায় সাংবাদিকদের উপর হামলা করে। হামলা হয় পুলিশের উপরেও।

    ওই আইনজীবী আদালতে আরও জানান, ওই ঘটনায় রাজ্যের পদক্ষেপে কোনও ত্রুটি ছিল না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে। হামলায় যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যাতে আইনি পদক্ষেপ করা হয়, তা-ই চাইছেন মামলাকারী। মামলাকারীর আইনজীবী হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাজ্যের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনও আন্দোলনের অনুমতি কী ভাবে মিলবে, কোনও রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভের পদ্ধতি কী হবে বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের গাইডলাইন কী হবে, তা গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এক মামলার শুনানিতে রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে রিপোর্ট আকারে জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু কোনও রিপোর্ট জমা পড়েনি। তবে বর্তমান সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, আদালত নির্দেশ দিলে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি করে দিতে পারে। কোনও রাজনৈতিক দল কোথায় মিটিং, মিছিল করতে পারবে, কতক্ষণের জন্য করতে পারবে সেই বিষয়ে একটি রিপোর্টও পেশ করতে পারে রাজ্য।

    এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৫ অগস্ট।

  • Link to this news (এই সময়)