• ‘ইডিয়ট’ মন্তব্যে লোকসভায় তুমুল হইচই, ‘গুলি ছোড়া’ মন্তব্যে শাহকে আক্রমণের পাল্টা রাহুলকে নিশানা বিজেপির
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • NEET-UG প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বুধবার লোকসভায় অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের আলোচনার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিবেশ। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘ইডিয়ট’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। রাহুলের ‘শব্দচয়ন’ নিয়ে আপত্তি তোলে বিজেপি। এর জন্য বিরোধী দলনেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানান তাঁরা। ঘটনার জেরে লোকসভায় ব্যাপক হইচই শুরু হয় এবং স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করেন। শেষপর্যন্ত রাহুলের ব্যবহার করা বেশ কিছু শব্দ ‘অসংসদীয়’ এই অভিযোগে লোকসভার রেকর্ড থেকে তা বাদ দিতে বলেন স্পিকার ওম বিড়লা। এর পাশাপাশি মিছিলে গুলি চালানোর অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করেন রাহুল। সেই নিয়েও রাহুলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন কিরেন রিজিজু।

    বুধবার লোকসভায় NEET প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন রাহুল গান্ধী। ছাত্রদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সমাজে ‘তিন শ্রেণির মানুষের’ কথা উল্লেখ করেন— পড়ুয়া, বোকা (ইডিয়ট্‌স) এবং অন্ধভক্ত।। তাঁর বক্তব্যে ‘অন্ধ ভক্ত’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিজেপি সাংসদরা। স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলের ব্যবহৃত ‘অন্ধ ভক্ত’ শব্দটিকেও অসংসদীয় বলে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

    NEET আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক ১৮ বছর বয়সি পড়ুয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল। তাঁর কথায়, ‘আমাকে ওই পড়ুয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থী সবসময় সত্যের পিছনে ছুটতে থাকে। তার কাছে সত্যই সুন্দর। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তা হলে ইডিয়ট্‌স কারা? তখন ওই পড়ুয়া আমাকে বলেন, বোকারা নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চান। বোকারা কারও কথা শোনেন না। তার পরেই আমি তাঁকে তৃতীয় শ্রেণির মানুষের কথা জিজ্ঞাসা করি। আমার কাছে তিনি জানতে চান, তৃতীয় শ্রেণির মানুষ কারা? আমি তাঁকে বলি, অন্ধভক্ত। এই অন্ধভক্তদের কোথায় রাখা উচিত? তখন তিনি আমায় বলেন, অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি বিশ্বাস করেন যে, এক জন বোকাই ঈশ্বর।’

    রাহুলের মন্তব্যের জবাবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁকে পাল্টা নিশানা করেন। রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রিজিজুও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এর পরেই সংসদে উত্তেজনা আরও বাড়ে। রাহুলের মন্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়েও বিরোধীরা আপত্তি তোলে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদের ভিতরে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, বিরোধী দলনেতাই প্রথমে শাসক দলের সমর্থকদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

    বুধবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহকে নিশানা করে রাহুল অভিযোগ করেন, সংসদ অভিমুখে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ ছিল। সরকার সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে।

    কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের ছাত্রদের রক্তে পেলেট ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ভারতের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন।’ সোশাল মিডিয়াতেও এই সংক্রান্ত একাধিক দাবি সামনে আসে। যদিও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো সেই দাবিকে মিথ্যে বলে জানিয়েছে। রাহুল গান্ধী-সহ বাকি বিরোধীরাও সংসদে এই ইস্যুতে অমিত শাহের জবাব চান। তবে সরকারের তরফে গুলি ছোড়ার যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করা হল সংসদে।

    রাহুলের অভিযোগের জবাবে পাল্টা কেন্দ্রের বক্তব্য, ওই বিক্ষোভে কোনও গুলি চালানো হয়নি, শুধুমাত্র কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। রাহুলের বক্তব্যের সারকথা ছিল, পুলিশের হাতে এমন শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই আসতে পারে। এই মন্তব্যের পরই ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদরা প্রতিবাদ শুরু করেন। সংসদে স্লোগান ওঠে এবং কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    রাহুলের অভিযোগের সরাসরি জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর প্রশ্ন, ‘কোন তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা দাবি করছেন যে অমিত শাহ ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন?’ সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও বলেন, ‘যে দাবি করা হচ্ছে তথ্যগতভাবে তা সম্পূর্ণ ভুল। গুলি চলেনি শুধু কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল।’

    রিজিজুর বক্তব্য, লোকসভায় একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা যায় না। তিনি রাহুলের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করার দাবি জানান। একইসঙ্গে বিজেপি সাংসদরাও রাহুলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।

    রিজিজু আরও যুক্তি দেন, যদি সত্যিই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে থাকে, তা হলে দু’টি সম্ভাবনা থাকতে পারে—হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথবা তিনি জানতেন না যে এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিরোধীরা চাইছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সংসদে স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া হোক এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

    NEET প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় রাহুল গান্ধী সমাজে ‘পড়ুয়া’, ‘ইডিয়ট’ এবং ‘অন্ধভক্ত’—এই তিন ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে আপত্তি জানায় বিজেপি, এরপরই লোকসভায় হইচই শুরু হয়।

    স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলের ব্যবহৃত ‘ইডিয়ট’ এবং ‘অন্ধভক্ত’-সহ কিছু শব্দ অসংসদীয় বলে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

    রিজিজু রাহুলের বক্তব্যের ভাষা ও তাঁর করা অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সংসদ অভিমুখে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং গুলি চালানোর নির্দেশের পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা ছিল।

    না। কেন্দ্রীয় সরকার রাহুলের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। সরকারের বক্তব্য, ওই বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল।

    কিরেন রিজিজু প্রশ্ন তুলেছেন, কোন তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধী দাবি করছেন যে অমিত শাহ ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করার দাবি জানান।

    রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের জন্য বিজেপি সাংসদরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদের ভিতরে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।

    বিরোধীদের দাবি, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে।

    Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026, অর্থাৎ অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় এই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

    লোকসভায় হইচইয়ের মধ্যে স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করেন এবং রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ অসংসদীয় বলে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

  • Link to this news (এই সময়)