• জলের দামে মিলবে জনপ্রিয় বালুচরি শাড়ি
    আজকাল | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাজারের থেকে কম দামে বালুচরি শাড়ি কিনতে চান? তাহলে এবার আপনাকে আসতেই হবে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। কারণ এখানকার বালুচরে এবার তৈরি হতে চলেছে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যশালী 'বালুচরি শাড়ির হাব'। প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ। এই 'হাবে'ই মিলবে বাজারের থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে বালুচরী শাড়ি।

    বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর দেওয়া একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে জিয়াগঞ্জে 'বালুচরী হাব' তৈরির কথা অন্যদিকে পর্যটন নির্ভর মুর্শিদাবাদের লালবাগ, জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের 'হকার সমস্যা'র স্থায়ী সমাধান।

    গৌরীশংকরের দাবি, এর ফলে পর্যটকরা শুধু মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যপূর্ণ স্থাপত্য দেখতেই আসবেন না। তাঁরা এখান থেকে ঐতিহ্যবাহী মুর্শিদাবাদ সিল্ক এবং জিয়াগঞ্জের বিখ্যাত বালুচরী শাড়িও কিনতে পারবেন। এতে পর্যটন বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে ।

    তাঁর ঘোষণা, প্রথমে অস্থায়ীভাবে হকারদের ব্যবসার জায়গা ঠিক করে দেওয়া হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে লালবাগ, জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে সেখানেই হকারদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। একইসঙ্গে হাজারদুয়ারি সংলগ্ন গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্যায়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    সাংবাদিক সম্মেলনে গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, “বিগত কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূল সরকারের আমলে নেতা-মন্ত্রীরা হকারদের শুধুমাত্র শোষণ করে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য কোনও সুবিধা বা ব্যবস্থাই করেননি। মানুষ পেটের তাগিদে হকারি করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু বিজেপি সরকার হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।”

    মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে তিনি লালবাগ শহরের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছেন। লালবাগ হাসপাতালের বিপরীতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানেই মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানেই হকাররা ব্যবসা করতে পারবেন। ফলে একদিকে যেমন হকারদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে লালবাগ শহরকে যানজট মুক্তও করা যাবে।

    গৌরীশংকরবাবু আরও বলেন, "হাজারদুয়ারির পাশে গঙ্গার পাড় বরাবর প্রচুর হকার যত্রতত্র বসে ব্যবসা করেন। তৃণমূলের জমানায় নেতারা বড় বড় হোটেল, অট্টালিকা বানিয়ে নিজেদের সুবিধা ভোগ করেছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা ভাবেননি। তাই আমাদের সরকার দু'টি কাজ একসঙ্গে করবে। একদিকে , হকারদের জন্য নির্দিষ্ট মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে তাঁদের পুনর্বাসন দেবে ।অন্যদিকে , আরও বেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য দীঘার সমুদ্রের পাড় যেরকম সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, হাজারদুয়ারির গঙ্গার পাড়েরও সেরকম সৌন্দর্যায়ণ করা হবে । "

    তিনি বলেন, “আমরা চাই পর্যটকরা এখানে এসে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করুন। সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের পর থেকেই গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্যকরণের কাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে পাহাড়বাগান কিংবা মতি মহলের সামনেও মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হবে,”।

    শুধু লালবাগ নয়, জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জ শহরেও একই মডেলে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হবে বলে জানান তিনি।  রাজ্যের মন্ত্রী আরও বলেন, "আজিমগঞ্জে প্রচুর পর্যটন স্থল রয়েছে, যা প্রচারের অভাবে পড়ে আছে। সেই জায়গাগুলির আধুনিককরণ করে মুর্শিদাবাদের পর্যটন শিল্পকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।" গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবেও একাধিক ঘোষণা করেন গৌরীশংকরবাবু । তিনি বলেন, "মুর্শিদাবাদের লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, আজিমগঞ্জের সরকারি গ্রন্থাগারগুলিকে দ্রুত 'ডিজিটালাইসড' করা হবে। পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে এই লাইব্রেরিতে এসে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে, তার জন্য আলাদা করে কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে,”।
  • Link to this news (আজকাল)