ফের আইআইটি খড়গপুরে শোক সংবাদ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ফের খড়গপুর আইআইটি-তে এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বুধবার দুপুর নাগাদ আইআইটি-র কর্মী আবাসন থেকে এক অধ্যাপকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই অধ্যাপকের নাম দীপক রেড্ডি পুল্লগুরাম। প্রায় ৩৫ বছর বয়সি ওই যুবক খড়গপুর আইআইটি-র ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বুধবার বেলা ১২ টা নাগাদ পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে দ্রুত ক্যাম্পাসের বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অধ্যাপকের বাড়ি হায়দরাবাদে। কর্মসূত্রে আইআইটি ক্যাম্পাসের আবাসনের একটি নির্দিষ্ট ঘরে তিনি একাই থাকতেন। তবে এদিন নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে খড়গপুর টাউন থানার অধীন হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। ঠিক কী কারণে এমন এক তরতাজা যুবকের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন সকলে। তিনি কোনও কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, পুলিশ আপাতত সেই দিকটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে তদন্তের সব রকম প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধ্যাপকের বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এমন একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা সামনে আসায় গোটা আইআইটি ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই প্রথম নয়, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে রীতিমত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সোহম হালদার নামের বাইশ বছর বয়সি এক পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল।
তিনি ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তারও আগে ১৮ এপ্রিল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া জয়বীর সিং দোডিয়ার রক্তাক্ত দেহ মেলে একটি আবাসনের নিচে। দেশের অন্যতম সেরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরপর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, সব মিলিয়ে গত ১৯ মাসে আইআইটি খড়গপুরে মোট ৯ জন পড়ুয়া এবং এক জন অধ্যাপকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। এত অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলি প্রাণহানির ঘটনায় ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই ধারাবাহিক মৃত্যু।