৪৫ দিনে চার্জশিট, জামিন খারিজ উচ্চ আদালতে! হাতির দাঁত পাচার মামলায় বড় সাজা শিলিগুড়িতে
News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণ পাচারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর। প্রায় আট মাস আগে উদ্ধার হওয়া হাতির দাঁত পাচার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কমল আগরওয়ালকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শিলিগুড়ি আদালতের এই রায়কে বন্যপ্রাণ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন বন দফতরের কর্মীরা আধিকারিকরা।
২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্শিয়াং বন বিভাগের ঘোষপুকুর রেঞ্জের একটি দল রেঞ্জ অফিসার সম্বর্ত সাধুর নেতৃত্বে এশিয়ান হাইওয়ে-২-এর বাগডোগরা বিহার মোড় এলাকায় নেপাল-নিবন্ধিত একটি গাড়ি আটক করে। তল্লাশিতে গাড়ি থেকে একটি অবৈধ হাতির দাঁত উদ্ধার হয়। ঘটনায় শিলিগুড়ির কমল আগরওয়াল এবং নেপালের গণেশ বাসফোরকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং উদ্ধার হওয়া বস্তুটি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তফসিল-১–ভুক্ত হাতির দাঁত বলে নিশ্চিত হয়। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে বন দফতর। বিচার চলাকালীন অভিযুক্তরা একাধিকবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত এবং পরে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলেও, বন দফতরের জোরালো বিরোধিতায় প্রতিবারই সেই আবেদন খারিজ হয়।
শেষ পর্যন্ত আদালত প্রধান অভিযুক্ত কমল আগরওয়ালকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর অধীনে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে। বন দফতরের দাবি, শিলিগুড়ি আদালতে বন্যপ্রাণ পাচার সংক্রান্ত মামলায় এটি অন্যতম কঠোর শাস্তির রায়, যা সংঘবদ্ধ পাচারচক্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। বন দফতরের মতে, দ্রুত তদন্ত, নির্ভুল প্রমাণ সংগ্রহ, নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল এবং কার্যকর প্রসিকিউশনের ফলেই এই ঐতিহাসিক রায় সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে একইভাবে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে বন দফতর।