রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’। বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই বুধবার ধ্বনি ভোটে বিল পাশ হয়। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ’-র মতোই জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমান করলেও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এতে। হতে পারে তিন বছরের জেল কিংবা জরিমানা অথবা দু’টোই। এ বার বিলটি লোকসভায় পাঠানো হবে।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব চেয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। এই সব হট্টগোলের মাঝেই বিল পেশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আলোচনার সময়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী সাংসদরা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করেন।
বিল অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানোর সময়ে অপমান বা বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা দু’টোই হতে পারে।
গানের ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে যেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হবে, সেখানে ‘বন্দে মাতরম’ও গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। নির্দেশিকায় বলা হয়, জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। গাওয়া বা শোনার সময় দাঁড়াতে হবে সবাইকে।
চলতি বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে রচিত এই গান ১৮৮২ সালে প্রকাশিত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায়। পরে ১৮৯৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম জনসমক্ষে গানটি পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে এই গান। দীর্ঘদিন ধরেই বন্দে মাতরমের আইনি মর্যাদা ও সুরক্ষা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এসেছে বিজেপি। এ বার সেই লক্ষ্যেই আইন সংশোধনের পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার।
এটি প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। এর মাধ্যমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’ অপমান করা বা গাওয়া-বাজানোয় বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা দু’টোই হতে পারে।
না। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর বিলটি লোকসভায় যাবে। সেখানেও পাস হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত হবে।
কেন্দ্রের দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং জাতীয় গানের মর্যাদা রক্ষার জন্য এই সংশোধনী প্রয়োজন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে গানটি রচনা করেন। ১৮৮২ সালে এটি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম জনসমক্ষে গানটি গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, যেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হবে, সেখানে ‘বন্দে মাতরম’ও গাওয়া বা বাজানো হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে এবং সেই সময় সবাইকে সতর্ক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।