বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে টাকার পাহাড়। মঙ্গলবার রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের কাছে ওই বাড়িতে বুধবার রাতেও চলছে টাকা গোনার কাজ। রাতভর তল্লাশি চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তাতেও চোখ কার্যত কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। বুধবার রাতে, বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেজ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ১৫ কেজি সোনা। তবে তল্লাশি এবং টাকা গোনার কাজ শেষ হলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান
রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বান্ধবী’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দু'টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ২০২২ সালে উদ্ধার হয় সেই টাকা। আর এ বার ডেউচার এই বাড়িতে অভিযান চালানো হতেই সেখানে পাওয়া গিয়েছে টাকার খনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশের অভিযানে পাথর ব্যবসায়ী তথা বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের আস্তানায় বড়সড় অভিযান চালায়। বীরভূমের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই টাকা বেআইনিভাবে তোলা হতো। ওই টাকা সিন্ডিকেটের অংশ অনুযায়ী রাখা হয়েছিল মিনার মণ্ডলের বাড়িতে।
কে মিনার মণ্ডল?
এই টাকা মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলেও এর সঙ্গে সরাসরি নাম জড়িয়েছে টুলু মণ্ডলের। অভিযোগ, ওই টাকা মিনারের বাড়িতে রেখেছিলেন টুলুই। এই মিনার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়। টুলু মণ্ডলের ভগ্নিপতি (টুলুর পিসতুতো বোনের স্বামী) মিনার। একই সঙ্গে টুলুর টোল ব্যবসার ম্যানেজার। এক সময়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থায় বাসের চালকের কাজ করতেন মিনার মণ্ডল। বছর চারেক আগে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে পাথর খাদানের ব্যবসায় নামেন তিনি। তবে স্থানীয়রা তাঁকে কার্যত চিনতেনই না। টুলু মণ্ডলের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসাবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি৷
কী জানিয়েছে পুলিশ?
বুধবার সকাল থেকে তল্লাশি শুরু হয়েছে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে। বুধবার রাতেও অব্যাহত তল্লাশি। নিয়ে আসা হয়েছে টাকা গোনার মেশিন, একাধিক ট্রাঙ্ক। ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিনারের দোতলা বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বাড়িতে টাকা ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে সোনার বার। তবে এখনও টুলু এবং মিনারের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার। ওই বাড়িতে বেআইনি ভাবে এই টাকা এবং সোনার বার রাখা হয়েছিল। এর পরে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হবে। এই ঘটনায় মিনারকে গ্রেপ্তার করা হবেও জানিয়েছেন তিনি।
এক নজরে:
FAQ
কোথায় চলছে অভিযান?
বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজারের ডেউচায় চলছে তল্লাশি অভিযান।
কার বাড়িতে তল্লাশি?
এই তল্লাশি চলছে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে।
কী পাওয়া গিয়েছে সেখানে?
এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা।
তল্লাশি অভিযান কি শেষ হয়েছে?
না, বুধবার রাতেও চলছে অভিযান। এই কাজ শেষ হলে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেন এই অভিযান?
ওই বাড়িতে বেআইনি ভাবে টাকা রাখা আছে বলে খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
কীসের টাকা রাখা থাকত সেখানে?
একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেআইনিভাবে তোলা ওই টাকা রাখা হয়েছিল মিনার মণ্ডলের বাড়িতে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে?
এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে তদন্ত শেষ হলেই গ্রেপ্তার হবে বলে জানিয়েছেন বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার।